মতামত
শিরোনাম: ৬ রানের হার দিয়েই বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের       ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, শান্তসহ নবনির্বাচিতদের শপথ       বিশ্বে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৪৯ লাখ পার       খালী কলসি বাজে বেশী ভরা কলসী বাজে না       কোচিং থেকে ছেলে নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না শাহাজানের       দুই মাদক কারবারীকে আটক করেছে র‌্যাব       ষষ্টিতলা ও খড়কির দুটি চক্রে উত্তেজনা        বেজপাড়ায় ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ        কুয়াদা থেকে ভুয়া কবিরাজ আটক       যবিপ্রবিতে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন      
হাজার কোটি টাকা কত টাকা?
মাহমুদা রিনি
Published : Monday, 20 September, 2021 at 10:09 PM, Count : 142
হাজার কোটি টাকা কত টাকা?আমরা যারা অতি সাধারণ মানুষ তাদেরকে যদি হঠাৎ প্রশ্ন করা হয় একহাজার কোটি টাকা কত টাকা? প্রথমেই চোখের সামনে লাল- নীল- হলুদ- সবুজ এক কথায় 'বেনীআসহকলা'র ঝিলিক খেলে যেতে পারে, কারণ আমরা একসাথে এত টাকা চোখে দেখিনি! হঠাৎ করে কল্পনা করাও সম্ভব না। অংকের হিসাব আলাদা, কারণ অংক করে অনেক বড়ো বড়ো হিসাব মেলানো যায়, সেখানে অংকের  হিসাবটাই মুখ্য। আর টাকার সাথে মানুষের অনুভূতি জড়িত। তাই অত টাকা কল্পনায় আনতে সাধারণ জনগণের ধাক্কা খাওয়াই স্বাভাবিক!  
আমি অর্থনীতি বুঝতে চাইছি না। অর্থনীতি বোঝা বা পর্যালোচনা করাও আমার উদ্দেশ্য নয়! আমার দেশের অর্থনীতিতে সকল নাগরিকের এমনকি  একজন ভিক্ষুকেরও অংশ আছে, কারণ সে ট্যাক্স দিয়েই পন্যসামগ্রি কেনে। তারও জানার অধিকার আছে তার দেয়া প্রতিটি পয়সা কিভাবে খরচ হয়! আমজনতার সেই অধিকারবোধ থেকেই বিষয়টি বুঝতে চাওয়া-- যখন হাজার হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন কায়দায় লোপাটের ঘটনা ঘটে।  
এবার যদি একটু এভাবে হিসাব করি-- একহাজার কোটি বাদ দিয়ে একশো কোটি টাকাই ধরি! এই একশো কোটি টাকা  উপার্জন করা কিভাবে সম্ভব? যতদূর জানি আমাদের দেশে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাকরি করেও একশো কোটি টাকা উপার্জন করা সম্ভব নয়। যারা বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করেন তাদের পক্ষে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে  উচ্চপদে আছেন, বৈদেশিক মুদ্রায় বেতন পান  তাদেরও একশো কোটি টাকা উপার্জন করতে একশো থেকে দেড়শো বছর ঐ পদেই চাকরি করতে হবে। সেটা যেহেতু সম্ভব না অর্থাৎ চাকরিতে রণেভঙ্গ দিলাম! এবার আসি ব্যবসায়। এখানে অবশ্য সম্ভব! বড় বড় ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন বিভিন্ন  ইন্ডাস্ট্রি, ফ্যাক্টরি, গাড়ী,জাহাজ, এক্সপোর্ট- ইমপোর্ট বা অন্য অনেক ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।  
তারপরও প্রতিটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই দেখা যায় বিপুল পরিমাণে ব্যাংকঋণ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। ব্যাংকঋণের কথা বাদ দিলেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর দেশের উন্নয়ন নির্ভরশীল। আমাদের মতো ছোট একটি দেশে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও এমন বেশি নয় যে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর লাভ-ক্ষতি, বিনিয়োগের যাবতীয় তথ্য- উপাত্ত সরকারের কাছে থাকবে না, নিশ্চয়ই আছে, এবং থাকারই কথা। কিন্তু আমরা প্রায়ই সংবাদপত্রে প্রকাশিত হতে দেখি হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি , বিদেশে পাচার হচ্ছে আরও হাজার কোটি টাকা! যে দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো দরিদ্রসীমায় বসবাস করে সেই দেশের মানুষ কিভাবে এতটা দুর্নীতিগ্রস্থ হতে পারে! দরিদ্ররা তো দুর্নীতি করে না, দুর্নীতি করে বেশির ভাগ শিক্ষিত, পদস্থ, ক্ষমতাধর মানুষ।  এই দেশে চাকরি করে কিভাবে এত টাকার মালিক হওয়া যায় তার কোন সঠিক উত্তর কারোর কাছে আছে বলে মনে হয় না। এই যে বর্তমান সময়ের আলোচিত এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরাণী চেহারার ভাইজান নাকি সাধারণ মানুষের সতেরো হাজার কোটি টাকা হাপিশ করে দিয়েছেন! মুফতি টাইটেলধারী এই সাচ্চা পরহেজগার (সাথে আরও সাগরেদরা মিলে) ইহকাল ও পরকালে নিশ্চিত সুখের পাক্কা বন্দোবস্ত করতে- ইমাম, মুয়াজ্জিন, মাদ্রাসা শিক্ষক থেকে শুরু করে সাধারণ, নিম্নবিত্ত ধর্মভীরু সব মানুষের কষ্টে উপার্জিত টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। যশোর অঞ্চল থেকেই নাকি নিয়েছে ৩শো ২২ কোটি টাকা।  সব টাকারই কিন্তু মূল উৎস সেই খেটে খাওয়া কৃষক, শ্রমিক, মজুর শ্রেণির মানুষ। লেখাপড়া শিখে উচ্চপদে আসীন হয়ে শিক্ষার মান, জাতির মান এবং দেশের সম্মান বাড়িয়ে তোলার বিপরীতে এই শিক্ষিত অর্থলোভী মানুষগুলো একটার পর একটা দুর্নীতি, লুটপাট  অনিয়ম আর ঘুষ বাণিজ্য গড়ে তুলছে। অবৈধ টাকার গরমে বা ধনী হওয়ার কারণে এরা সমাজের সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠে। কেউ খোঁজ নেয় না এত টাকার উৎস কোথায়! মাঝে মাঝে দুই-একজন ভাগ্যচক্রে ধরা পড়ে, তখন হঠাৎ করে  অবৈধ টাকার কারিশমা আমাদের চমকে দেয়। অবাক হয়ে শুনি-- একজন সরকারি অফিসের ড্রাইভারেরও নাকি কোটি টাকার সম্পদ হতে পারে, অবশ্য নামে বেনামে--- এমন একটা ভাব যেন পৈতৃক এবং শ্বশুর কুলের সবাই জমিদার ছিল। সবার নামেই কোটি কোটি টাকা! বালিশ, পর্দা, নারকেলগাছ, কয়লা এমন আরও অনেক ঘটনা, দুর্নীতি অনিয়মের অনেক গল্প আমরা জানি। আর এই দুর্নীতিবাজ ধেড়ে ইঁদুরদের ধরতে যে বিড়াল পোষা হয় তারাও আমিষের লোভে মাতোয়ারা হয়ে ঐ দলে ভীড়ে যায়। চেইন অব সিস্টেম যেন এমন হয়ে গেছে-- ভূত তাড়াতে ওঝা, ওঝার ঘাড়েই ভূত! 
এই এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান গংদের মতো প্রেতাত্মারা যখন এই ধরনের ব্যবসা শুরু করে তখন সেটা সরকারি গোচরে আসে না--! তাহলে হয়তো এই হাজার হাজার মানুষকে এমন নিঃস্ব হয়ে আহাজারি করতে হতো না। সরকার দৌড়ায় চুনোপুঁটির পিছনে আর পিছন দিয়ে রাঘব-বোয়াল, রুই-কাতলাগুলো হেসে-খেলে বেরিয়ে যায়!
যাইহোক দেশের মানুষ আশা করে দেশের সর্বস্তর থেকে এইধরনের প্রতারণা জালিয়াতির অবসান হবে। দুর্নীতিকে একটা সীমারেখায় থামিয়ে দেয়া সময়ের দাবি এবং অত্যন্ত জরুরি। যে কোনো মূল্যে যদি ঘুষ-দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করা যায় তাহলে আগামী প্রজন্মকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করা যাবে এমন স্বপ্ন এখনো  মানুষদেখতে চায়। দেশপ্রেমের সেই কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন সফল হোক, সঠিক বাস্তবায়ন হোক। 





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft