
যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাজিয়ালী গ্রামের একমাত্র চলাচলের সড়কের ওপর নির্মিত ব্রিজটি ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয় সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরাও।
স্থানীয়রা জানান, দোগাছিয়া সালামিতের বিল ও সাজিয়ালী বাঁওড়ের পানি নিষ্কাশনের জন্য কয়েক বছর আগে একটি খাল খনন করা হয়। ওই খালের ওপর দিয়ে সাজিয়ালী গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রায় ২৫/৩০ বছর আগে নির্মিত এই ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
দুই বছর আগে খালটি পুনঃখনন করা হয়। খননের সময় পুরোনো ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টির কারণে খালে অতিরিক্ত পানি ও প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হলে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে।
ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে চুড়ামনকাটি, বারীনগর বাজার, সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ি ও যশোর শহরে যাতায়াতে সমস্যায় পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। বাধ্য হয়ে তাদের দীর্ঘ ও বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সবজি চাষিরা। চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের মধ্যে সাজিয়ালী গ্রামে সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয়ে থাকে। স্থানীয় সবজি চাষি মিন্টু গাজী বলেন, ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় মাঠ থেকে সবজি বাজারে নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। এছাড়া ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা নিজেদের গাড়ি বাড়ি পর্যন্ত নিতে পারছেন না।
স্থানীয় ইজিবাইক চালকরা জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে হঠাৎ ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। বর্তমানে যাত্রী পরিবহনে চরম সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত ব্রিজটি সংস্কারের দাবি জানান তারা।
চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করছি।
চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে বিষয়টি মন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদেরও অবহিত করা হয়েছে। তিনি জানান, আপাতত গ্রামবাসীর উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করে কোনোরকমে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুর রউফ বলেন, ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় কয়েকটি গ্রামে যেতে তাদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকেও বিকল্প পথ দিয়ে আসতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, ব্রিজটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা হওয়ায় দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
মন্তব্য করুন