
যশোর জেলা স্যানিটারি ও নলকূপ ব্যবসায়ী মালিক কল্যাণ সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনকে ঘিরে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে যশোরের পাইপপট্টি এলাকাজুড়ে। প্রথমবারের মতো আগামী ২৪ জুলাই ভোটের মাধ্যমে সমিতির নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ৬৩ জন ভোটার এখন অপেক্ষায়-কারা আসবেন আগামী দিনের নেতৃত্বে। তবে ভোটারদের প্রত্যাশা, যোগ্য ও সৎ নেতৃত্বের হাতেই সংগঠনের দায়িত্বভার অর্পিত হবে।
নির্বাচনে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি ফিরোজ কবির ও সিরাজ মোল্লা, সহ-সভাপতি পদে শরীফ মো. মুক্তি মাহমুদ তিলক ও মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক পদে মইনুদ্দিন ও আল-আমিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে শুকুর আলী টুকু ও মনিরুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সাইফুল ইসলাম বাবু ও লিটন, কোষাধ্যক্ষ পদে নান্নু হোসেন ও এস এম তাহমিদুর রহমান এবং দপ্তর সম্পাদক পদে মো. সেলিম হোসেন ও এস এম মুস্তাফিজুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এছাড়া ছয়টি সদস্য পদের বিপরীতে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, আরমান হোসেন, আমিনুর ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন জসীম, আলমগীর হোসেন, মো. মাহাবুব, মাহিম ইসলাম মুন, মনির মিস্ত্রি, মুজিবর রহমান, নূর ইসলাম মোল্লা, জালাল আহমেদ ও মোতালেব হোসেন।
সমিতি সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪৫ বছর ধরে যশোরের স্যানিটারি ও নলকূপ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঐক্য থাকলেও দীর্ঘদিন কোনো আনুষ্ঠানিক সংগঠন ছিল না। মৌখিকভাবে কয়েকজন ব্যবসায়ী সংগঠনের দায়িত্ব পালন করতেন। পরে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে প্রবীণ ও নবীন ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সমিতির কার্যক্রম শুরু হয়। করোনাকালে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সমিতিটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে ২০২২ সালে সমিতি নিবন্ধন লাভ করে। এরপর সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হলেও সর্বশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, এবার আর সিলেকশন নয়-ভোটের মাধ্যমেই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে ১৩টি পদের বিপরীতে ২৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
বিগত কমিটির সভাপতি ফিরোজ কবির ও সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন বলেন, তাদের নেতৃত্বে সমিতির জন্য নানা কল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাদের সময়ে সমিতির নিজস্ব কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সরকারি নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করেছেন। অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতেই তারা আবারও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাদের দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং সকল সদস্যের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই তারা কাজ করতে চান।
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন জ্যেষ্ঠ ব্যবসায়ী মোস্তাক হোসেন শিম্বা, রাজ আলী রাজু ও মুক্তাদিরুল তুষার। তারা জানান, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে, সাধারণ সদস্যরা নির্বাচনের আগে ২৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে আন্ডার রেট বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, সমিতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সাধারণ সভার মাধ্যমে গ্রহণ, সঠিক তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো কর্মচারীকে হয়রানি না করা, স্টাফদের পরিচয়পত্র প্রদান, সমিতির কল্যাণ তহবিল গঠন ইত্যাদি। এসব দাবির পক্ষে বিভিন্ন দোকানের সামনে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে প্রার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। প্রার্থীরাও এসব দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন।
মন্তব্য করুন