
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মুক্তারপুর-গোয়ালবাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত ঢালী ব্রিকস নামে একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণ, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অবৈধ ইটভাটাটি দ্রুত অপসারণ ও বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫ বছর আগে গোয়ালবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল হক ঢালী স্থানীয়দের জমি দখল করে ইটভাটাটি স্থাপন করেন। ভাটার চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, কয়লার ধুলা ও ছাইয়ের কারণে আশপাশের বসতবাড়ি, গাছপালা ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দূষণের ফলে এলাকাবাসী শ্বাসকষ্ট, ফুসফুস, চোখ ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া ইট প্রস্তুতের জন্য বছরের পর বছর উর্বর কৃষিজমির মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বায়ুদূষণে ফসল ও গাছপালা নষ্ট হচ্ছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, বসতবাড়ি ও ফসলি জমির মাঝখানে আইন লঙ্ঘন করে ইটভাটাটি গড়ে তোলা হয়েছে। ভাটার ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগও বেড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৮) অনুযায়ী আবাসিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমির পাশে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ হলেও ঢালী ব্রিকস সেই আইন অমান্য করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে ভাটা মালিক ও তার লোকজন হুমকি-ধমকি ও মারধরের ভয় দেখান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঢালী ব্রিকসের মালিক আব্দুল হক ঢালী বলেন, সব ধরনের নিয়ম মেনেই ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে অভিযোগ করে থাকতে পারেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন জানান, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের যশোরের উপ-পরিচালক আতাউর রহমান বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঢালী ব্রিকসের বিরুদ্ধে দ্রুত অপসারণ ও কার্যক্রম বন্ধসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন