
ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে যশোরের মণিরামপুরে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বনফুল অ্যান্ড কোংকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তথ্যবিহীন খাদ্যপণ্য বিক্রি এবং নষ্ট দই সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে এ জরিমানা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে মণিরামপুর বাজারে পরিচালিত অভিযানে বনফুল অ্যান্ড কোংয়ের বিক্রয়কেন্দ্রে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও প্রয়োজনীয় লেবেলিংয়ের ঘাটতি পাওয়া যায়। এছাড়া ফ্রিজে সংরক্ষিত কিছু দই নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল, যা ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়।
এসব অনিয়মের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আবু মুছা হৃদয়কে (২৮) ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি যশোর সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।
অভিযান পরিচালনা করেন মণিরামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন। তিনি বলেন, খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই মুনাফার জন্য কোনো ব্যবসায়ী যদি অনিরাপদ খাদ্য বিক্রি করে ভোক্তার স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, জরিমানার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতে মিষ্টি, বেকারি পণ্যসহ সব ধরনের খাদ্যসামগ্রীর মোড়কে বাধ্যতামূলকভাবে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মণিরামপুর থানার একদল পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন