
ঝিনাইহের নিভৃত পল্লীতে আর্জেন্টিনার এক অন্ধ ভক্ত তিনটি পাকা বাড়ির ভিতরে-বাহিরে রঙে সাজিয়ে নাম দিয়েছেন আর্জেন্টিনা বাড়ি। এ বাড়ি দেখতে ফুটবল প্রেমী মানুষ প্রতিদিন ভীড় জমাচ্ছে। রাস্তার পাশ দিয়ে পতাকা আর পতাকা সজ্জিত করেছেন। তিনি জমি ও গাছ বিক্রি করে চার লাখ টাকা খরচ করে হতবাক করা কান্ড ঘটিয়ে হৈচৈ ফেলেছেন জেলা জুড়ে। তার দল চ্যাম্পিয়ন হলে পাগল ভক্ত শামিম হোসেন করবেন বিয়ে, দিলেন এমন প্রতিশ্রুতি।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল, সালমা খাতুন জানান, ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার নিভৃত পল্লী জোড়াদহ গ্রামের শামিম হোসেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি আর্জেন্টিনার অন্ধ ভক্ত। তিনি স্বাস্থ্য বিভাগে চাকুরী করলেও বিশ্বকাপ আসলে দলের জন্য তার মনে প্রাণ কেধে উঠে। ম্যারাডোনা-মেসির খেলার জাদুতে তিনি তাদের প্রেমে পড়ে গেছেন। সেই প্রিয় দলকে স্বরণ করতে রাস্তার পাশে প্রথম বাড়িটির চারপাশে আর্জেন্টিনার পতাকা শোভা পাচ্ছে, পাকা বাড়ির সামনে, পিছনে, ভিতরে সব স্থানে জাতীয় পতাকার আদৌলতে রঙে সাজিয়েছেন। তিনটি বাড়ির নাম আর্জেন্টিনা ১-২-৩ নাম দিয়েছেন। ছাদে বাংলাদেশের পতাকা শোভা পাচ্ছে। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ছবি, প্যানা বোর্ড ও হৃদয়ে আর্জেন্টিনা লেখা রয়েছে।
তার প্রিয় দল সকল ইভেন্টে জয় ছিনিয়ে আনলে তিনি স্থানীয়দের খাবারও খাওয়াবেন, সে প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন। মেসির অন্ধ ভক্ত শামিম হোসেন দলকে ভালোবেসে জমি- গাছ বিক্রি করে বিশ্বকাপের এ আয়োজনে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ করেছেন।
এ আসরের বিশ^কাপে তার প্রিয় দল চ্যাম্পিয়ন হলে তিনি বিয়ের পীড়িতে বসবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
গ্রামবাসীরা জানান, দেশ ও বিদেশে আর্জেন্টিনার ভক্ত শামিম হোসেনের মতো তিনটি বাড়ি রঙ-প্রতিকৃতি, ব্যানার-পতাকা দিয়ে সাজিয়ে নজির সৃষ্টি করেছেন, এমন অন্ধ ভক্ত কেউ কখনই দেখেননি, যে দলকে ভালোবেসে এতো কিছু করে।
স্থানীয় নারী ও ক্ষুদে ভক্তরা জানান, আমাদের আর্জেন্টিনার গর্ব শামিম। গত বিশ্বকাপে এ দলকে ভালোবেসে একটি বাড়ি রং করলেও এবার তিনি তিনটি বাড়ি রং করেছেন। বাড়ির ভিতর- বাহির- ওয়াশরুম সবখানেই ব্রাজিলের দলের কালার করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তারাও চান, শামিমের দল জিতুক, জিতলে তিনি বিয়ের পীড়িতে বসুক এমনটি প্রত্যাশা করেন।
এদিকে দলের ভক্ত শামিম হোসেন জানিয়েছেন, ছোটকাল থেকেই তিনি ফুটবলের ভক্ত। তিনি আর্জেন্টিনার খেলা দেখে এ দলের প্রতি অন্ধ ভক্ত হয়ে ভালোবেসে তিনটি ঘর রং করে সাজিয়েছেন। বাড়ির চারপাশে তিনি দেশের পতাকাসহ পছন্দের দলের পতাকা টানিয়েছেন সড়কের পাশে।
এ বিশ্বকাপে তার বাড়ি দেখে অনেকে এসে ছবি তুলছেন, তাতেই তিনি সন্তুষ্ট। তবে বিশ^কাপ নিলে এবার তিনি বিয়ের পীড়িতে বসবেন বলে আশ্বাস দেন। তার মনের বাসনা প্রিয় দল জিতুক।
মন্তব্য করুন