
প্রতিপক্ষের হামলায় মাথার খুলি ভেঙে যাওয়া নাছিমা বেগম ওরফে নাছি এখনো বেঁচে আছেন। তবে ভেঙে যাওয়া মাথার খুলি পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারেননি হতদরিদ্র নাছিমা। তিনি এখনো স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারেন না। জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার শিকার হয়ে অর্ধমৃত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার আদালতে মামলা করেছেন নাছিমার ভাই, যশোর সদর উপজেলার চাওলিয়া গ্রামের সাইদুল ইসলাম। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে তা সরাসরি থানায় এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাছিমা সদর উপজেলার চাওলিয়া গ্রামের হোসেন আলী মেম্বারের মেয়ে। মামলার আসামিরা হলেন সদর উপজেলার গোপালপুর আদর্শ গ্রামের আজিতের দুই ছেলে টিপু (২৭) ও অপু (২৫), এবং মৃত ইসহাক দফাদারের দুই ছেলে পল্টু (৪৫) ও মাহাবুব (৫০)।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের সঙ্গে হোসেন আলী ও তার পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ কারণে তারা প্রায়ই হোসেন আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল।
গত ২৩ মে আসামিরা দা, লোহার রড ও ধারালো হাসুয়া নিয়ে তাদের বাড়িতে যায়। এ সময় তারা হোসেন আলীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে তার মেয়ে নাছিমা প্রতিবাদ করলে আসামিরা লোহার রড দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করে। এতে তার মাথার খুলি ভেঙে যায়।
এরপর হোসেন আলী ঘর থেকে বেরিয়ে এলে আসামিরা হাসুয়া দিয়ে তার মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করে। কোপটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার কপালে লাগে এবং গুরুতর জখম হয়। পরে নাছিমা ও তার পিতা মাটিতে পড়ে গেলে আসামিরা তাদের এলোপাতাড়ি মারধর ও কোপাতে থাকে। এতে তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।
হামলার একপর্যায়ে আসামিরা তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে আহত নাছিমা ও তার পিতাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নাছিমার অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে তিনি দীর্ঘদিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার মাথার খুলির ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কৃত্রিম ব্যবস্থা স্থাপন করেন। তবে এখনো তিনি স্বাভাবিকভাবে বসতে বা চলাফেরা করতে পারেন না।
মন্তব্য করুন