
সকালের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির মহাকাব্যিক হ্যাটট্রিকের পর স্বাভাবিকভাবেই ফুটবল বিশ্বের সব আলো কেড়ে নিয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। রাতে মাঠে নামা 'সিআর সেভেন' (CR7) কী জাদুকরী জবাব দেন, তা দেখতে অধীর আগ্রহে মুখিয়ে ছিল কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে ভক্তদের সেই প্রত্যাশার বেলুন যেন এক মুহূর্তেই ভেস্তে গেল। গোল পেলেন না রোনালদো, জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারল না পর্তুগালও।
পরাশক্তি পর্তুগিজদের ১–১ গোলে রুখে দিয়ে বিশ্বমঞ্চে এক রূপকথার ইতিহাস লিখেছে আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গো। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল করার পাশাপাশি প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার অবিস্মরণীয় গৌরব অর্জন করল তারা।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত চিত্র:
নেভেসের শুরুর চমক ও রোনালদোর অফ-ফর্ম
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য পর্তুগালের জন্য ছিল দুর্দান্ত। ষষ্ঠ মিনিটেই পিএসজি মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেসের চমৎকার গোলে লিড নেয় পর্তুগিজরা। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোরা হয়তো বড় জয়ের পথেই হাঁটছেন। তবে প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও প্রতিপক্ষের জমাট ডিফেন্সের কারণে ব্যবধান বাড়াতে পারেননি সিআর সেভেন। পুরো ম্যাচে কঙ্গোর ডিফেন্ডাররা রোনালদোকে বোতলবন্দি করে রাখতে সক্ষম হন, যার ফলে চেনা ছন্দে দেখা যায়নি এই পর্তুগিজ মহাতারকাকে।
কঙ্গোর পাল্টা আঘাত ও ঐতিহাসিক সেই গোল
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় ডিআর কঙ্গো। গোল হজম করে পিছিয়ে পড়লেও আফ্রিকার দলটি বিন্দুমাত্র মনোবল হারায়নি। ম্যাচে পর্তুগালের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সমতা ফেরায় কঙ্গো। বল জালে জড়ানোর সাথে সাথেই বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো কঙ্গো শিবির। কারণ এটি কেবল সমতার গোল ছিল না, এটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ডিআর কঙ্গোর প্রথম গোলের মহাকাব্য!
মেসি-রোনালদো দ্বৈরথে আক্ষেপের রাত
একই দিনে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মাঠের লড়াই আলাদা এক উত্তেজনা তৈরি করেছিল। সকালে মেসি যেখানে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বরেকর্ড ছুঁয়ে উল্লাসে মেতেছেন, সেখানে রাতের ম্যাচে রোনালদোকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে একরাশ হতাশা নিয়ে। ১-১ গোলে ম্যাচ ড্র হওয়ায় নিশ্চিত ৩ পয়েন্ট হাতছাড়া করে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল। অন্যদিকে, বিশ্বসেরা দলকে রুখে দিয়ে ১ পয়েন্ট পাওয়ার আনন্দ কঙ্গোর কাছে ছিল বিশ্বকাপ জয়ের মতোই মধুর।
মন্তব্য করুন