
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যুগে যুগে নতুন নতুন প্রতিভার আবির্ভাব ঘটেছে। সেসকল আবির্ভাবের ভীড়েও কেউ কেউ তার নিজস্বতা, নিষ্ঠা ও অসাধারণত্ব দিয়ে আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছেন। দেশ ও দেশের গন্ডি পেরিয়ে এমনি অনেকে নিজ মেধা ও প্রতিভার গুণে আলোকিত হন, আলোকিত করেন নিজের এবং দেশের নাম। তেমনি একজন যশোরের সন্তান নৃত্যশিল্পী রাফিয়াত নাসির কথা।
তিনি দেশ পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে ছন্দের জাদু ছড়িয়ে দেওয়া এক উজ্জ্বল নাম। শিল্পসত্তা ও প্রতিভার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। শৈশব থেকেই নৃত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল কথা’র। পরিবারের উৎসাহ, বিশেষ করে মায়ের চেষ্টা ও নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি তাকে খুব অল্প বয়সেই নৃত্যশিল্পের সঙ্গে যুক্ত করে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কঠোর পরিশ্রম এবং দীর্ঘদিনের সাধনার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে একজন দক্ষ ও পরিপূর্ণ নৃত্যশিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছেন।
যশোরের বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী জন সঞ্জীব চক্রবর্তীর শিষ্য রাফিয়াত নাসির কথার নৃত্য রয়েছে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। তার প্রতিটি পরিবেশনায় ফুঁটে ওঠে নিখুঁত তাল-লয়, সাবলীলতা ও অভিব্যক্তির সমন্বয়। মঞ্চে তার উপস্থিতি এতটাই শক্তিশালী যে, দর্শক সহজেই তার পরিবেশনার সাথে একাত্ম হয়ে পড়েন। তার পরিবেশনা শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে এক আবেগময় অভিজ্ঞতা।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রাফিয়াত নাসির কথা তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ভারতে আয়োজিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তিনি তার নৃত্যশৈলীর মাধ্যমে প্রশংসা অর্জন করেছেন। তার পরিবেশনায় বাংলাদেশের ঐতিহ্য বিদেশি দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। এছাড়াও মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে তার সফল অংশগ্রহণ ছিল। এভাবে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং দর্শকদের মন জয় করেন।
রাফিয়াত নাসির কথা নৃত্যশিল্পে অবদানের জন্য বিভিন্ন সম্মাননাও অর্জন করেছেন। এসকল পুরস্কার ও সম্মাননা প্রাপ্তি তার প্রতিভা, অধ্যাবসায় এবং শিল্পের প্রতি তার একাগ্রতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, ‘নৃত্য কেবল বিনোদন নয়, এটি একটি শক্তিশালী ভাষা, যার মাধ্যমে একজন শিল্পী তার মনের অনুভূতি ও সংস্কৃতিকে প্রকাশ করতে পারেন।’ এ দর্শন থেকেই তিনি প্রতিটি পরিবেশনায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেন। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম। তার সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে, সঠিক দিকনির্দেশনা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো স্বপ্নই বাস্তবায়ন সম্ভব।
ভবিষ্যতে রাফিয়াত নাসির কথা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করতে চান। তার লক্ষ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী সংস্কৃতিকে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরা এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা। তার নিরলস প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক সাফল্য তাকে নৃত্যশিল্পের জগতে আরও উচ্চতায় পৌঁছে দেবে এমনটাই প্রত্যাশা শিল্প সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে সংশ্লিষ্টদের।
মন্তব্য করুন