
বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন এবং তাঁর পরিবারের রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ এবার এনে দিয়েছে উল্লেখযোগ্য আর্থিক লাভ। মুম্বাইয়ের আন্ধেরি পশ্চিম এলাকার জনপ্রিয় আবাসন প্রকল্প ‘রাহেজা ক্ল্যাসিক’-এ থাকা চারটি আবাসিক ফ্ল্যাট বিক্রি করে কৃতি শ্যানন, তাঁর বোন নূপুর শ্যানন এবং মা গীতা শ্যানন প্রায় ১০৭ শতাংশ মুনাফা অর্জন করেছেন।
সম্পত্তি–সংক্রান্ত নিবন্ধিত নথি অনুযায়ী, চারটি ফ্ল্যাট মোট ৮ কোটি ৯০ লাখ রুপিতে বিক্রি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বলিউড ও বিনোদন জগতের তারকাদের পছন্দের আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত এই প্রকল্পে সম্পত্তির মূল্য গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মুম্বাইয়ের আন্ধেরি পশ্চিম অঞ্চল বর্তমানে শহরের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন আবাসিক এলাকা। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, মেট্রো রেল সংযোগ, পশ্চিম এক্সপ্রেস হাইওয়ের সহজ প্রবেশাধিকার এবং ফিল্ম সিটি ও বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নিকটবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চলের সম্পত্তির বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে।
রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকদের মতে, এসব অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং উচ্চ চাহিদার কারণে এলাকার আবাসিক ইউনিটগুলোর দাম ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নথিপত্রে দেখা যায়, দুটি বড় ফ্ল্যাটের প্রতিটির বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ২৩ লাখ রুপি। প্রতিটি ইউনিটের আয়তন প্রায় ৬৫৪ বর্গফুট এবং সঙ্গে রয়েছে একটি করে গাড়ি পার্কিং সুবিধা।
অন্যদিকে তুলনামূলক ছোট দুটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা হয়েছে প্রতিটি ১ কোটি ২১ লাখ রুপিতে।
সব মিলিয়ে চারটি ইউনিট বিক্রি করে পরিবারটি পেয়েছে মোট ৮ কোটি ৯০ লাখ রুপি।
সম্পত্তি রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৩ সালে গীতা শ্যানন দুটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন মোট ১ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে। পরে ২০১৭ সালে কৃতি শ্যানন ও নূপুর শ্যানন আরও দুটি ইউনিট কেনেন ২ কোটি ৯০ লাখ রুপিতে।
অর্থাৎ চারটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য তাঁদের মোট বিনিয়োগ ছিল প্রায় ৪ কোটি ৩১ লাখ রুপি। বর্তমানে ৮ কোটি ৯০ লাখ রুপিতে বিক্রির ফলে তাঁদের অতিরিক্ত আয় হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ রুপি, যা মূল বিনিয়োগের তুলনায় প্রায় ১০৭ শতাংশ মুনাফা।
চারটি ফ্ল্যাটের নতুন মালিক হয়েছেন বলিউডের পরিচিত কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবরা। তিনি বহু নতুন শিল্পীকে বলিউডে পরিচিত করে তোলার জন্য সুপরিচিত। এছাড়া ২০২০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দিল বেচারা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন।
২০১৪ সালে বলিউডে অভিষেকের পর কৃতি স্যানন ধারাবাহিকভাবে নিজেকে ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় তিনি।
অন্যদিকে তাঁর বোন নূপুর স্যানন অভিনয় ও সংগীত—দুই ক্ষেত্রেই নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রিয়েল এস্টেটে এই সফল বিনিয়োগ শ্যানন পরিবারের আর্থিক দূরদর্শিতারই একটি নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন