
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছেন, রোববারই দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি নাকচ করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শনিবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি রোববার স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। তার দাবি অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাধা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত হবে।
এদিকে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফও চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তির বিষয় নিশ্চিত করা হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, রোববার চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ট্রাম্পের ঘোষণার পরই ইরানে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন।
রাজধানী তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে সরকারের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নাম উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার বিরোধিতা করা হয়।
অনলাইন পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে যে বিক্ষোভে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির ছবি বহন করা হয়েছে, যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত এবং আঞ্চলিক চাপ—সব মিলিয়ে ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে জনমত ও রেভলিউশনারি গার্ডের প্রভাব, অন্যদিকে সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষতির বাস্তবতা—দুই দিকই সমঝোতার আলোচনায় ভূমিকা রাখছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখনো স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের ঘোষণা, তেহরানের অস্বীকৃতি এবং রাস্তায় নেমে আসা বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই কূটনৈতিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন