
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে নেইমারের উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। বয়স, চোট আর ফর্ম—সব মিলিয়ে এই তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় থাকলেও সমর্থকদের কাছে তিনি এখনো এক বিশেষ আবেগের নাম। ২৪ বছরের বিশ্বকাপ শিরোপা খরা কাটানোর আশার প্রতীক হিসেবেই দেখা হয় এই ফরোয়ার্ডকে।
ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে চোটের কারণে মাঠে নামতে পারেননি নেইমার। কাফ ইনজুরির কারণে পুরো ম্যাচই তাকে বেঞ্চে বসে দেখতে হয়েছে। তবে মাঠে না থেকেও তিনিই ছিলেন সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম।
স্টেডিয়ামে উপস্থিত বহু ব্রাজিল সমর্থক তার জার্সি পরে এসেছিলেন। তাদের মতে, বড় ম্যাচে খেলায় মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কেবল তিনিই রাখেন। অনেক সমর্থকের চোখে তিনি এখনো দলের প্রধান অনুপ্রেরণা।
ম্যাচের শুরু থেকেই চাপের মুখে ছিল ব্রাজিল। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বারবার বিপদে পড়ে সেলেসাওরা। প্রথমার্ধে গোল হজম করার পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও ম্যাচটি শেষ হয় ১-১ ড্রতে।
দ্বিতীয়ার্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গোল করে দলকে সমতায় ফেরান, কিন্তু পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণে ধারাবাহিক সৃজনশীলতার ঘাটতি স্পষ্ট ছিল।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কয়েকটি উজ্জ্বল মুহূর্ত ছাড়া ব্রাজিলের আক্রমণে গতি ও পরিকল্পনার ঘাটতি চোখে পড়ে। আর সেই শূন্যতা পূরণের আলোচনায় বারবার উঠে আসে নেইমারের নাম।
পেলে, রোনালদো, রোনালদিনহো ও কাকার মতো কিংবদন্তিদের উত্তরসূরি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিবেচিত হয়ে আসছেন তিনি। কিন্তু এখনো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন তার কাছে অপূর্ণ।
সমর্থকদের একাংশ মনে করেন, এটিই হতে পারে নেইমারের শেষ বিশ্বকাপ মঞ্চে বড় কিছু করার সুযোগ। ইনজুরি কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরলে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী হবে—এমন বিশ্বাসই ঘুরে বেড়াচ্ছে গ্যালারি থেকে সামাজিক মাধ্যমে।
ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের কাছ থেকেও নেইমারকে ঘিরে ছিল বাড়তি আগ্রহ। মাঠে না থাকলেও তার জনপ্রিয়তা যে কোনো ম্যাচের আবহ বদলে দিতে যথেষ্ট—এটাই আবারও প্রমাণিত হয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিলের শিরোপা স্বপ্ন এখনো জোরালো। আর সেই স্বপ্ন বাস্তব করতে নেইমারের ফিটনেস ও প্রত্যাবর্তন এখন সবচেয়ে বড় অপেক্ষার নাম।
মন্তব্য করুন