
দীর্ঘ ২৪ বছর পর ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে এসেছিল তুরস্ক। তবে প্রত্যাবর্তনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণকে আনন্দময় হতে দেয়নি অস্ট্রেলিয়া। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ডি’-এর প্রথম ম্যাচে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও কার্যকর কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবলের প্রদর্শনীতে তুরস্ককে ২-০ গোলে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করেছে সকারুজরা।
ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গোল দুটি করেন তরুণ ফরোয়ার্ড নেস্টোরি ইরানকুন্ডা এবং মিডফিল্ডার কনর মেটকাফে।
কোচ টনি পোপোভিচের পরিকল্পনায় শুরু থেকেই রক্ষণভাগকে শক্ত রেখে দ্রুত প্রতি-আক্রমণে ওঠার কৌশল নেয় অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের প্রথমার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল তুরস্কের কাছে, তবে তাদের আক্রমণগুলো অজি রক্ষণভাগ ভেদ করতে ব্যর্থ হয়।
ম্যাচের ২৬তম মিনিটে আসে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম গোল। মাঝমাঠ থেকে পল ওকন-এংস্টলারের নিখুঁত থ্রু-পাস ধরে দ্রুত এগিয়ে যান ২০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। ডিফেন্ডার মেরিহ ডেমিরালকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
গোল হজম করার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে তুরস্ক। তারা ম্যাচের প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বলের দখল ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায়। তবে অস্ট্রেলিয়ার তরুণ গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ এবং অধিনায়কসুলভ নেতৃত্ব দেওয়া ডিফেন্ডার হ্যারি সুটারের দৃঢ়তায় বারবার হতাশ হতে হয় তুর্কিদের।
ম্যাচের ৩০তম মিনিটে আব্দুলকেরিম বারদাকচির শক্তিশালী শট প্যাট্রিক বিচের আঙুল ছুঁয়ে পোস্টে লেগে ফিরে এলে সমতায় ফেরার বড় সুযোগ হাতছাড়া করে তুরস্ক।
তুরস্ক যখন সমতা ফেরানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছিল, তখনই ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া।
মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে গিয়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া কনর মেটকাফের অসাধারণ দূরপাল্লার শট তুরস্কের জালে আশ্রয় নেয়। এই গোলের পর ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া তুরস্ক আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘ডি’-তে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে পরাজিত করে গোল ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে সহ-আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, ২০০৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে জয় পেল অস্ট্রেলিয়া। ফলে আত্মবিশ্বাসে ভর করে টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকবে সকারুজরা, আর তুরস্ককে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিতে হবে পরের ম্যাচ থেকেই।
মন্তব্য করুন