
ফিলাডেলফিয়ায় বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আফ্রিকা মহাদেশের শক্তিশালী দল আইভরি কোস্ট। পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চ থাকলেও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় একদম শেষ মুহূর্তে। ৯০ মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উইঙ্গার আমাদ দিয়ালোর করা একমাত্র নাটকীয় গোলে মহামূল্যবান ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে আইভরিয়ানরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল সমানে-সমান লড়াই। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের গ্যালারির বড় অংশ জুড়ে ইকুয়েডর সমর্থকদের হলুদ সমুদ্র তৈরি হলেও, মাঠের লড়াইয়ে আধিপত্য ধরে রাখতে লড়েছে দুই দলই। ২ মিনিটে চেলসি মিডফিল্ডার মইসেস কাইসেদোর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে প্রথম সুযোগ হারায় ইকুয়েডর। ১০ মিনিটে হিনকাপিয়ের নিচু ক্রস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়েও গ্যালারিতে উড়িয়ে মারেন ইকুয়েডরের এনার ভ্যালেন্সিয়া।
২৩ মিনিটে আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার আগবাদুর ভুলে বল কেড়ে নিয়ে দারুণ এক বাঁকানো শট নেন জন ইয়েবোয়া। কিন্তু তার সেই অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টা ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
৩০ মিনিটে আবারও ক্রসবারে দুর্ভাগ্যের শিকার হয় লা ত্রিরা। কাইসেদোর প্রেসিং থেকে বল পেয়ে অ্যালান মিন্দার নেওয়া শট গোলকিপারকে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়।
আইভরি কোস্টও অবশ্য বসে ছিল না। ১৭ মিনিটে কেসিয়ের পাস থেকে তোরের শট অল্পের জন্য বাইরে যায় এবং ৩৫ মিনিটে নিকোলাস পেপের জোরালো শট জীবন বাজি রেখে ব্লক করেন ইকুয়েডরের অ্যালান ফ্রাঙ্কো। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে উইলফ্রিড সিঙ্গোর দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিক ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে গোলশূন্য ব্যবধানে বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর ম্যাচের ধার আরও বাড়ে। ৪৬ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়ার শট সাইডনেটে লাগে। এর ঠিক ৬ মিনিট পর (৫২ মিনিটে) এবার আইভরি কোস্টকে হতাশ করে ক্রসবার। দিয়োমান্দের ক্রস থেকে এলিয়ে ওয়াহির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ম্যাচে তৃতীয়বারের মতো গোলবঞ্চিত হয় কোনো দল। ৬৮ মিনিটে ইকুয়েডরের প্লাতার বাঁকানো শট দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানা।
বিরতির সময় 'অপটা সুপারকম্পিউটার' ম্যাচটি ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ৩৭.৯ শতাংশ দেখালেও, ফুটবলের শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা সব হিসাব বদলে দেয়।
ম্যাচ যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ৯০ মিনিটে দৃশ্যপটে হাজির হন বদলি খেলোয়াড় আমাদ দিয়ালো। নিজেদের অর্ধে বল পেয়ে ডান প্রান্ত ধরে দুর্দান্ত গতিতে ওপরে উঠে আসেন ডিফেন্ডার উইলফ্রিড সিঙ্গো। বক্সের প্রান্তে থাকা আমাদের উদ্দেশ্যে নিখুঁত এক কাটব্যাক বাড়ান তিনি। বল পেয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা ঠাণ্ডা মাথায় বাঁ-পায়ের নিখুঁত শটে বল জড়ান জালের নিচের বাঁ কোণে। ইকুয়েডরের গোলরক্ষক গালিন্দেজের কিছুই করার ছিল না।
গোল হজমের পর যোগ করা সময়ে কর্নার আদায় করে মরিয়া আক্রমণ চালায় ইকুয়েডর। তবে কসোনুর দৃঢ়তা ও আইভরিয়ানদের শৃঙ্খলিত ডিফেন্সের সামনে তা ভেস্তে যায়। গোলরক্ষক ফোফানা এবং ডিফেন্ডারদের অনবদ্য প্রাচীরে ভর করে ১-০ ব্যবধান ধরে রেখেই জয়োৎসবে মাতে আইভরি কোস্ট।
বিশ্বকাপ মিশনের শুরুতেই এই জয় আফ্রিকান প্রতিনিধিদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। অন্যদিকে, অন্তত দুইবার ক্রসবারে বল লাগা এবং একাধিক সুবর্ণ সুযোগ নষ্টের আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো ইকুয়েডরকে।
মন্তব্য করুন
১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
১৫ জুন ২০২৬, ০১:১২ এএম