
বিশ্বকাপের মঞ্চে একেই হয়তো বলে খাঁটি ফুটবল রোমাঞ্চ! ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়া, প্রতিপক্ষ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি, আর নিজেদের শক্তির বিচারে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ছোট দল। কিন্তু সব সমীকরণ ও ফুটবলীয় ইতিহাসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই অবিশ্বাস্য এক রূপকথা লিখল কুরাসাও। ম্যাচের ২১ মিনিটেই জার্মানির জালে বল পাঠিয়ে সমতায় ফিরল তারা!
দেড় লাখ মানুষের দেশের মহাকাব্য
জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ কুরাসাও। মাত্র দেড় লাখের একটু বেশি জনসংখ্যার এই দ্বীপরাষ্ট্রটির এবারই প্রথম বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছে। আর নিজেদের প্রথম ম্যাচেই পরাশক্তি জার্মানির মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ২১ মিনিটের মাথায় গোল শোধ করে ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিল তারা।
যেভাবে এল সেই ঐতিহাসিক গোল
ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে জার্মান মিডফিল্ডার এনমেচার গোলে জার্মানি এগিয়ে যাওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন কুরাসাও হয়তো বড় ব্যবধানে হারতে যাচ্ছে। কিন্তু ম্যাচের ২১ মিনিটে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। জার্মানির ডি-বক্সের ভেতর বল পান কুরাসাওয়ের রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেনসিয়া। ঠান্ডা মাথায় তাঁর নেওয়া চমৎকার বাঁ পায়ের নিখুঁত শট ফাঁকি দেয় জার্মানির অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারকে। বল জালে জড়াতেই ইতিহাস তৈরি হয়। বিশ্বকাপে এটিই কুরাসাওয়ের ইতিহাসের প্রথম গোল!
হিউস্টনে ‘নীল ঢেউ’য়ের গর্জন
কুরাসাওয়ের এই ঐতিহাসিক গোলের পর হিউস্টন স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে যেন আছড়ে পড়ে এক অবিস্মরণীয় ‘নীল ঢেউ’। কুরাসাওয়ের নীল জার্সি পরিহিত সমর্থকদের গগনবিদারী গর্জনে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। দেড় লাখ জনসংখ্যার ছোট্ট একটি দেশের জন্য এই মুহূর্তটি যে আজীবন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
মন্তব্য করুন