
২০১৪ সালের বেলো হরাইজেন্তের সেই স্মৃতি যেন আবারও ফিরে এলো বিশ্বমঞ্চে! ব্রাজিলের বিপক্ষে জার্মানির সেই ঐতিহাসিক ‘৭–১’ ব্যবধানের জয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক মহাকাব্য। আজ কুরাসাওয়ের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ঠিক একই স্কোরলাইনের পুনরাবৃত্তি ঘটাল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নবাগত কুরাসাওকে ৭–১ গোলের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত এক জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল জার্মানি।
ম্যাচ হাইলাইটস:
চূড়ান্ত ফলাফল: জার্মানি ৭–১ কুরাসাও
গোলদাতা (জার্মানি): এনমেচা (৬মি.), নিকো (৩৮মি.), পেনাল্টি (৪৫মি.), মুসিয়ালা (৪৮মি.), কাই হাভার্টজ (২টি) ও অন্যান্য।
গোলদাতা (কুরাসাও): লিভানো কোমেনেনসিয়া (২১মি.)
৬ মিনিটের ঝড় এবং কুরাসাওয়ের রূপকথা
হিউস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় জার্মানি। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে জার্মান মিডফিল্ডার এনমেচার গোলে এগিয়ে যায় তারা। তবে ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ তখনও বাকি ছিল। ২১ মিনিটে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রক্ষণভাগকে স্তম্ভিত করে দেন কুরাসাওয়ের রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেনসিয়া। বক্সের ভেতর থেকে তাঁর নেওয়া বাঁ পায়ের নিখুঁত শট জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারকে পরাস্ত করলে ১-১ সমতায় ফেরে কুরাসাও। মাত্র দেড় লাখ জনসংখ্যার এই ছোট্ট দেশটির জন্য এটি ছিল বিশ্বকাপে তাদের ইতিহাসের প্রথম গোল, যা গ্যালারিতে এক অভূতপূর্ব ‘নীল ঢেউ’য়ের গর্জন তোলে। প্রথমার্ধেই জার্মানির নিয়ন্ত্রণ
সমতায় থাকার অস্বস্তি জার্মানরা বেশিক্ষণ সহ্য করেনি। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক হেডে জার্মানিকে আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ডিফেন্ডার নিকো। এরপর প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে কুরাসাওয়ের ডি-বক্সে ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় জার্মানি। স্পট কিক থেকে গোল করে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানদের গোল উৎসব ও হাভার্টজের ম্যাজিক
বিরতির পরপরই কুরাসাওয়ের ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেন জামাল মুসিয়ালা। ৪৮ মিনিটে ইয়োশুয়া কিমিখের চমৎকার পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৪-১ করেন এই তরুণ সেনসেশন। এরপর শুরু হয় জার্মান ফরোয়ার্ডদের একক আধিপত্য।
ম্যাচের শেষভাগে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগকে পুরোপুরি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দলের হয়ে সপ্তম গোলটি করেন কাই হাভার্টজ। এটি ছিল ম্যাচে তাঁর ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল। আর এই গোলের সাথে সাথেই স্কোরলাইন গিয়ে দাঁড়ায় সেই চেনা ‘৭-১’ এ। শেষ বাঁশিতে উল্লাস জার্মান শিবিরে
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে ৭-১ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত হয় জার্মানির। ম্যাচের শুরুতে কুরাসাও লড়াকু ফুটবলের আভাস দিলেও জার্মানির অভিজ্ঞতা ও বিশ্বমানের আক্রমণের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি। এই বিশাল জয়ের পর পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে টুর্নামেন্ট শুরু করল জার্মানি। অন্যদিকে, বড় ব্যবধানে হারলেও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথম গোল এবং প্রথমার্ধের লড়াকু পারফরম্যান্স কুরাসাও ফুটবলের জন্য আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন