
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২১ বছর পর ওয়ানডে জয় এবং প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়—বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় লিখেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। তবে এই অর্জনের পরও থেমে নেই টাইগারদের অগ্রযাত্রা। এবার লক্ষ্য আরও বড়—বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করা।
আজ রবিবার (১৪ জুন) মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল। ইতিমধ্যে সিরিজ জিতে নেওয়ায় আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে স্বাগতিকরা। এখন তাদের সামনে ঐতিহাসিক হোয়াইটওয়াশের হাতছানি।
গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। ১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারালেও নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকারের ৮৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ম্যাচের ভিত গড়ে দেয়।
মিডল অর্ডারে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও তাওহীদ হৃদয় ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে ৩৮ বল হাতে রেখেই জয় এনে দেয়।
বল হাতে ভয়ংকর শুরু করে বাংলাদেশ। মাত্র ০ রানে প্রথম ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ইতিহাসের বিরল এক কীর্তি গড়ে টাইগাররা। ওয়ানডে ইতিহাসে এটি ছিল চতুর্থ ঘটনা, যেখানে কোনো দল শূন্য রানে প্রথম তিন উইকেট হারায়।
নতুন বল হাতে দুর্দান্ত বোলিং করেন মুস্তাফিজুর রহমান, পাওয়ারপ্লেতেই ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।
ইনিংসের শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংও অস্ট্রেলিয়াকে বড় স্কোর গড়তে দেয়নি।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও এই সিরিজে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিক ব্যর্থতা দেখিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। টপ অর্ডার দুই ম্যাচেই দ্রুত ভেঙে পড়েছে।
তবে মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। বিশেষ করে বার্টলেটের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সই অজিদের জন্য অন্যতম ইতিবাচক দিক।
আজকের ম্যাচেও সবচেয়ে বড় আকর্ষণ থাকবেন তাসকিন আহমেদ। নতুন বল হাতে তার আগ্রাসী বোলিং অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় হুমকি হতে পারে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জেভিয়ার বার্টলেটই মূল ভরসা। ব্যাটে-বলে তার পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করতে পারে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো যাবে কি না।
চোটের কারণে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তার জায়গায় একাদশে ফিরতে পারেন রিশাদ হোসেন।
উইকেটরক্ষক লিটন দাসের পাশে ব্যাটিংয়ে দেখা যেতে পারে নুরুল হাসান সোহানকে। পেস আক্রমণে শরিফুল ইসলামের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও রয়েছে।
তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানা/শরিফুল ইসলাম।
বাংলাদেশ এখন ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের খুব কাছাকাছি। সিরিজ জয়ের পর এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে সেটি হবে টাইগারদের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা অর্জন।
মন্তব্য করুন