মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

সাইনবোর্ডে ডেন্টাল সার্জনের নাম-পদবি চিকিৎসা দেন হাতুড়ে ডাক্তার !

আশিকুর রহমান শিমুল
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫২ পিএম
ছবি-গ্রামের কাগজ

সাইনবোর্ডে ব্যবহার করছেন একজন বিডিএস (ডেন্টাল সার্জন) চিকিৎসকের নাম ও পদবি। আর চেম্বারের ভিতরে রোগী দেখছেন অন্য এক কথিত ডাক্তার। দীর্ঘদিন ধরে রোগীর সাথে এমন প্রতারণা করছেন যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া বাজারের হাজী মার্কেটের ‘হক ডেন্টাল কেয়ার’। তাদের অপচিকিৎকার শিকার হয়েছেন ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি।

চেম্বারের সামনে ঝোলানো সাইনবোর্ডে দাবি করা হয়েছে, এখানে নিয়মিত রোগী দেখেন ডেন্টাল সার্জন ডাক্তার সুষ্মিতা সেন কেয়া (বিডিএস)। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চেম্বার করেন না। তিনি কেবল মাঝে মধ্যে দু’একবার ভিজিট করতে আসেন, নিয়মিত রোগী দেখা বা চিকিৎসা কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত নন।

এর বিপরীতে, চেম্বারের ভেতরে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রোগী দেখছেন আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে তিনিই চিকিৎসা, ওষুধ প্রদান এবং রুট ক্যানেলসহ নানা কর্মকান্ড করে আসছেন। অথচ তার কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি নেই। গ্রামের সহজ-সরল রোগীরা সাইনবোর্ডে বিডিএস ডাক্তারের নাম দেখে বিভ্রান্ত হয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন। অনেকেই বুঝতেই পারছেন না যে তারা একজন অনুমোদিত ডেন্টাল সার্জনের পরিবর্তে একজন হাতুড়ে ব্যক্তির কাছ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সম্প্রতি তার অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন সদর উপজেলার চাউলিয়া গ্রামের তাসলিমা খাতুন, নরেন্দ্রপুরের আকবর আলীসহ অনেকে।

জানা গেছে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের নজর এড়াতে প্রতিষ্ঠানটি একটি পরিকল্পিত প্রতারণার কৌশল গ্রহণ করেছে। চেম্বারের সামনে একজন নিবন্ধিত বিডিএস ডেন্টাল সার্জনের নাম ও পদবি সম্বলিত সাইনবোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ ও পরিদর্শনকারী কর্মকর্তারা বিভ্রান্ত হন।

বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী, বিডিএস ডিগ্রি ও বিএমডিসি নিবন্ধন ছাড়া কেউ দাঁতের চিকিৎসা করতে পারেন না। অনোনুমোদিতভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা এ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

এছাড়া, অনুমোদিত চিকিৎসকের নাম ও পদবি ব্যবহার করে রোগীদের বিভ্রান্ত করার বিষয়টি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর প্রতারণা সংক্রান্ত ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একই সঙ্গে মিথ্যা পরিচয়ে চিকিৎসা দিয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪২০ ধারায় (প্রতারণা) শাস্তির বিধান রয়েছে।

রোগী সেজে আনোয়ার হোসেনের কাছে দু’দফা ফোন করে ডাক্তার সুষ্মিতা সেন কেয়াকে দেখাতে চাইলে জানানো হয় তিনি এদিন চেম্বারে নেই। আগে থেকে সিরিয়াল করে থাকলে ডাক্তার আসলে ফোন করে দেখিয়ে দেবেন। ডাক্তারের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে তিনি কেনো রোগী দেখছেন বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস নাটক, জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

কাসেমিরোর গোলে স্বস্তি, জাপানের বিপক্ষে সমতায় ফিরল ব্রাজিল

সেলেসাওদের স্তব্ধ করে জাপানের গোল, শুরুতেই পিছিয়ে পড়ল ব্রাজিল

যশোরে জাতীয় পার্টির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত 

শার্শার বসতপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য

ইনুর মামলার রায় কাল, সরাসরি দেখবে দেশবাসী

ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নেইমারকে ছাড়াই জাপানের বিপক্ষে নামছে ব্রাজিল

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

অর্থ বিল পাস, যেসব পরিবর্তন এলো 

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যশোরে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

যশোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার  

যশোরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

X