
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি, ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপ এবং ওমান উপকূলে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুসহ একাধিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কিছুটা টানাপড়েনের আভাস দেখা গিয়েছিল। তবে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে আবারও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনতে পর্দার আড়ালে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের মধ্যে কোনো গুরুতর টানাপড়েন ছিল না।
শনিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সার্জিও গোর বলেন, নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বের ধরণ এবং কাজের দর্শনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। তার ভাষায়, দুই নেতাই শুধু পরিকল্পনা করেই থেমে থাকেন না, বরং বাস্তবায়নের মাধ্যমে দৃশ্যমান ফলাফল অর্জন করতে পছন্দ করেন।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, তাদের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো—তারা একইভাবে চিন্তা করেন এবং বাস্তব ফলাফল দিতে বিশ্বাসী।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, ট্রাম্প ও মোদির ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। দুই নেতার নিয়মিত যোগাযোগ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ইতিবাচক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ভারতের প্রতি ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, জানতে চালে গোর বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং ভারত উভয়কেই অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদায় দেখেন। তিনি বলেন, ’ভারতের প্রতি প্রেসিডেন্টের মনোভাব খুবই আন্তরিক। তিনি সবসময়ই প্রধানমন্ত্রীকে তার ব্যক্তিগত একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন।
ট্রাম্প এখনো তার প্রথম ভারত সফরের কথা স্মরণ করেন বলে উল্লেখ করে গোর বলেন, ’তিনি (ট্রাম্প) আমাকে তার প্রথম ভারত সফরের কথা মনে করিয়ে দেন এবং সেখানে যে প্রাণচাঞ্চল্য তিনি দেখেছিলেন, তা উল্লেখ করেন। এটি এমন কিছু যা তিনি কখনোই ভুলে যাননি।
’ হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করার পর গোর জানান, ’আমি এইমাত্র প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এলাম। প্রেসিডেন্ট যে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন তা হলো— 'তাহলে আমি কবে আসছি?' তিনি ভারতে আসার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আগামী বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। সফরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে তিনি নিজেও চলতি বছরের শেষ দিকে ভারত সফর করবেন।
রুবিও বলেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদার এবং দুই দেশের প্রধান নেতাদের পারস্পরিক সম্পর্ক বর্তমান বৈশ্বিক কূটনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মন্তব্য করুন