
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার আছিয়া বেগম হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে যশোর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সদর কোম্পানি সিলেট এবং র্যাব-৬, সিপিসি-৩, যশোরের একটি যৌথ আভিযানিক দল যশোর জেলার কোতোয়ালি মডেল থানাধীন ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে। তিনি ছাতক থানার মামলা নং-১৮, তারিখ ১১/০৬/২০২৬ খ্রি., ধারা-১৪৩/৩৪২/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১১৪/৩০২/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০-এর এজাহারনামীয় ১নং পলাতক আসামি ছিলেন।
গ্রেফতারকৃত আসামি হাফিজুর রহমান (৩০), মো. নূর মিয়ার ছেলে। তিনি ছাতক উপজেলার বনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ভিকটিম আছিয়া বেগম সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানাধীন বনগাঁও এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ভিকটিম ও আসামিপক্ষ পরস্পর আত্মীয় এবং একই এলাকার বাসিন্দা। নূর মিয়া ভিকটিমের মেয়ের শ্বশুর। ভিকটিমের মেয়ের স্বামী প্রবাসে থাকেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে বিরোধ ও ঝগড়ার জেরে ভিকটিমের মেয়েকে একাধিকবার মারধরের অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার কয়েকদিন আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে ভিকটিমের মেয়েকে মারধর করা হয়। এ বিষয়ে সালিশ বৈঠক আয়োজন করা হয় গত ০৭/০৬/২০২৬ তারিখ সকালে। ওই সালিশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ভিকটিমের স্বামী এবং ভিকটিম উপস্থিত ছিলেন।
সালিশ শেষে ভিকটিম ও তার স্বামী বাড়ি ফেরার পথে বিবাদী নূর মিয়ার বাড়ির দক্ষিণ পাশে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে নূর মিয়ার নির্দেশে অন্যান্য বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র রামদা, লোহার রড, শাবল, সুলফি, লাঠি, ইটের টুকরা ও কাঠের বর্গা দিয়ে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে আছিয়া বেগম মারা যান।
এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে ছাতক থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে র্যাব-৯ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম শহীদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯-এর অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন