
গাইবান্ধা জেলা শহরের পার্শ্ববর্তী খোলাহাটী ইউনিয়নের ভেরামারা ব্রিজ এলাকায় অবস্থিত মিনি জাফলং চাইনিজ রেস্টুরেন্ট পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক। তিনি দাবি করেছেন, চাঁদা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় গাইবান্ধা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রেস্টুরেন্টটির মালিক মো. মানিক মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছ থেকে জায়গা লিজ নিয়ে তিনি রেস্টুরেন্টটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে পরিচালনার দায়িত্ব আমির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, রেস্টুরেন্ট চালুর পর থেকেই একটি প্রভাবশালী চক্র বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই চক্রের ইন্ধনে পরিকল্পিতভাবে একদল সন্ত্রাসী তাঁর প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলে। এরপর রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে মালামাল লুটপাট করে এবং আগুন দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পুড়িয়ে দেয়।
মানিক মিয়া বলেন, “যদি আমার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রীয় আইনে তাঁর বিচার হোক, সেটাই আমি চাই। কিন্তু আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি কেন পুড়িয়ে দেওয়া হলো? বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে তিলে তিলে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। এখন সব শেষ হয়ে গেছে। কীভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।”
তিনি তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর সুযোগ, নিজের ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে রেস্টুরেন্টের মালিক মানিক মিয়া, পরিচালক আমির উদ্দিনের পরিবারের সদস্য ও স্বজন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন মিনি জাফলং চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা চালিয়ে মালামাল লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির মালিক দাবি করেন, ওই ঘটনার আড়ালে চাঁদাবাজির বিরোধই তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মূল কারণ।
মন্তব্য করুন