
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সব বাধা ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তিনি চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরবেন। রোববার (২৮ জুন) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেন না; বরং বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যেই রাজনীতি করেন।
তিনি আরও বলেন, জীবনে বহু প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও কখনও পিছিয়ে যাননি। ১৯৭৫ সালে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হারানো এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনার পরও তিনি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তাই সব বাধা অতিক্রম করে এ বছরই দেশে ফেরার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
শেখ হাসিনার দাবি, আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়; বরং বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি রাজনৈতিক শক্তি।
তিনি বলেন, ৭৭ বছরের ইতিহাসে দলটি বহুবার হামলা, রক্তপাত ও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। তবে প্রতিবারই জনগণের সমর্থনের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের দুর্বলতার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং জনগণের সমর্থনই দলটির প্রধান শক্তি।
ক্ষমতা হারানোর প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা দাবি করেন, বাংলাদেশবিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। তবে তার মতে, জনগণের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে সরানো সম্ভব হয়নি।
দলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং হাজারো মামলা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না, বরং জনগণের ওপর নির্ভর করে।
তার দাবি, দলীয় কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করা কিংবা নির্বাচনের বাইরে রাখলেও মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে সরানো যায়নি।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও এলাকায় প্রতিদিন আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিল হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নিচ্ছেন। এটি দলটির পুনর্জাগরণের লক্ষণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আক্রমণ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ভাঙচুর হয়েছে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে অপরাধ হিসেবে দেখানো হয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, মন্দির, সুফি দরগাহ ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হামলার শিকার হয়েছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে গোপন যোগাযোগের গুঞ্জন উড়িয়ে দেন শেখ হাসিনা। বলেন, এটি জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য ছড়ানো প্রচারণা। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার, জনগণের ভোটাধিকার এবং ন্যায়বিচার কোনো গোপন দর-কষাকষির বিষয় নয়। এগুলো জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।
এ সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না, জনগণের সমর্থন ও সাংবিধানিক অধিকারের ভিত্তিতেই রাজনীতি করবে।
মন্তব্য করুন