
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল ইরানকে। রবিবার (২৮ জুন) গ্রুপ জে-তে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার রোমাঞ্চকর ৩-৩ গোলের ড্রয়ের পর শেষ ৩২-এ ওঠার সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় ইরানের। ফলে সেরা আট তৃতীয় হওয়া দলের তালিকায় নবম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে হয় দলটিকে।
নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করতে হলে আলজেরিয়া কিংবা অস্ট্রিয়ার যেকোনো একটি দলের পরাজয় প্রয়োজন ছিল ইরানের। কিন্তু দুই দলের ছয় গোলের নাটকীয় ড্রয়ে সেই সমীকরণ আর মেলেনি।
এ নিয়ে বিশ্বকাপে সপ্তমবার অংশ নিয়েও প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল ইরানের।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর আয়োজক দেশের আচরণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়ি। তার অভিযোগ, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দলটির সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করা হয়েছে।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, আয়োজক দেশ আমাদের সঙ্গে মোটেও ভালো আচরণ করেনি। ভবিষ্যতে কোনো দল যেন এমন পরিস্থিতির শিকার না হয়, সে বিষয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
তিনি আরো বলেন, আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি গর্বিত। এত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও তারা যেভাবে লড়াই করেছে, তা ইতিহাসে লেখা থাকবে। আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা সত্যিই হতাশাজনক। তারপরও আমরা ভালো খেলেছি এবং বিশ্বের কাছে ইরানের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছি। এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।
বিশ্বকাপ চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানকে অ্যারিজোনার টুকসন থেকে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প সরিয়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় নিতে হয়। এ ছাড়া তিনটি গ্রুপ ম্যাচ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতেও নানা ধরনের ভ্রমণ ও লজিস্টিক সমস্যার মুখোমুখি হয় দলটি।
বিদায়ের আগে নিজেদের ড্রেসিংরুমে একটি হাতে লেখা বার্তাও রেখে যায় ইরান। সেখানে সিয়াটলের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি দেশের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা হয়, ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি চরিত্রেরও পরীক্ষা।
ইরানের এই আবেগঘন বিদায় বার্তা ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এবারের বিশ্বকাপে তাদের নকআউটে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হয়নি, তবুও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দলের লড়াকু মানসিকতা সমর্থকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন