
বিদেশে অবস্থানরত স্বামী ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের এক নারী। অভিযোগের ভিত্তিতে দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, যৌতুকের টাকা না পেয়ে তার স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর তাকে তালাকের হুমকি দেন। পাশাপাশি ভিডিও কলে একান্ত মুহূর্তের ব্যক্তিগত ভিডিও গোপনে ধারণ করে তা বন্ধুদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং ফেসবুকে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর তা কোতোয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। পরে পুলিশের অভিযানে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন সদর উপজেলার বসুন্দিয়া গ্রামের শাহিন সিদ্দিকীর ছেলে আনিক মোল্লা (১৯) এবং শরিফুল ইসলামের ছেলে রেশান মাহমুদ (২০)।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০১৪ সালের ২ মার্চ সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে আবু সাঈদের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। কন্যাসন্তান জন্মের পর থেকেই আবু সাঈদ পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। বিদেশ যাওয়ার জন্যও টাকার চাপ দেন তিনি। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে কষ্ট করে দুই লাখ টাকা দেওয়া হলেও তিনি সন্তুষ্ট হননি।
গত বছরের ১২ মার্চ আবু সাঈদ বিদেশে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে অবস্থানকালে ভিডিও কলে কথা বলার সময় স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করেন তিনি। পরে ওই ভিডিও তার ভাগ্নে রেশান মাহমুদের কাছে দেন। রেশান মাহমুদ পরবর্তীতে ভিডিওটি আনিক মোল্লার কাছে সরবরাহ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়, গত বছরের ১৪ জুলাই আনিক মোল্লা ইমো অ্যাপের মাধ্যমে ভিডিওটি পাঠিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এতে ভুক্তভোগী নারী সামাজিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই কবির হোসেন মোল্লা জানান, মামলার দুই আসামি আনিক মোল্লা ও রেশান মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামি আবু সাঈদ বিদেশে অবস্থান করায় তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন