
প্রায় ১৪ মাস পর সারাদেশের সঙ্গে মিল রেখে যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন। শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে রোববার থেকে উপজেলার ৫২ হাজার ৭০০ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ মোট ৪০৮টি অস্থায়ী কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একযোগে ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৬ হাজার ৫০০ শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৪৬ হাজার ২০০ শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অনুপ কুমার বসু বলেন, জাতীয় এই কর্মসূচি সফল করতে উপজেলার প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো শিশুই যেন এই গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. সুমন কবীর বলেন, ভিটামিন এ শুধু অন্ধত্ব প্রতিরোধই করে না, এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ এবং অপুষ্টির ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নির্ধারিত বয়সের প্রতিটি শিশুকে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল বলেন, একটি সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার কোনো বিকল্প নেই। অভিভাবকদের সচেতন অংশগ্রহণই এ কর্মসূচির সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মণিরামপুরে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
রোববার সকালে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপজেলার বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। ভোজগাতী টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে কেন্দ্রগুলো ছিল প্রাণবন্ত।
ভোজগাতী কেন্দ্রে ছেলে সন্তানকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর পর সন্তোষ প্রকাশ করেন অভিভাবক খাদিজা খাতুন। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যকর্মীরা খুব যত্নসহকারে আমার ছেলেকে ক্যাপসুল খাইয়েছেন। কোনো ভোগান্তি হয়নি। সন্তানদের সুস্থ রাখতে সরকারের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল, মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. সুমন কবীর, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অনুপ কুমার বসু, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তফা কামাল ফয়সাল সৈকত, মেডিকেল ডেন্টাল সার্জন ডা. ইয়াসির আরাফাত, মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদুল ইসলাম, ডা. নাহিদ হাসান, ডা. রাফেজা খাতুন, ডা. মারুফা নাসরিন, ডা. মুনীফ মশিয়ার মম, ডা. অনিক দত্ত, ডা. জয়িতা মণ্ডল, ডা. শারমিনা খাতুন স্নেহা, ডা. প্রিয়াংকা দত্ত, ডা. রুবায়েত মাশরুর মাসুক, ডা. সজীব কুণ্ডু, মেডিকেল অফিসার (ইউনানী) ডা. রুহুল আমিন, স্টাফ নার্স ঝর্না খাতুন, হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স, এসএসিএমও (SACMO) এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত বয়সের কোনো শিশু যাতে এই কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে নিবিড় তদারকি অব্যাহত রয়েছে। অভিভাবকদের সহযোগিতায় মণিরামপুরে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন