
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ব্রাজিল নাকি এশিয়ার সূর্যোদয়ের দেশ জাপান—আজকের হাইভোল্টেজ ম্যাচে শেষ হাসি হাসবে কে? বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার রাত ১১টায় টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল।
নকআউট পর্বের (শেষ ৩২) এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যে দল হারবে, তারা বিদায় নেবে; আর জয়ী দল রাউন্ড অব সিক্সটিনে মুখোমুখি হবে আইভরিকোস্ট বা নরওয়ের।
কাগজে-কলমে এবং শক্তিমত্তার বিচারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলই এই ম্যাচে পরিষ্কার ফেবারিট। বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের অবস্থান ৬ নম্বরে, যেখানে জাপান রয়েছে ২৮ নম্বরে। এমনকি সুপার কম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের জেতার সম্ভাবনা ৫৭.৩ থেকে ৫৭.৭ শতাংশ, আর জাপানের সম্ভাবনা মাত্র ১৮ থেকে ১৯.৭ শতাংশ। সুপার কম্পিউটারের ইঙ্গিত—ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়েও গড়াতে পারে।
ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ব্রাজিল বহুদূরে এগিয়ে থাকলেও, সর্বশেষ দেখার স্মৃতি জাপানের পক্ষে কথা বলছে। দুই দল এ পর্যন্ত মোট ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। যার মধ্যে ব্রাজিলের জয় ১১টিতে, ড্র হয়েছে ২টি এবং জাপান জিতেছে মাত্র ১টি ম্যাচ। তবে জাপানের সেই একমাত্র ঐতিহাসিক জয়টি এসেছে সর্বশেষ দেখায়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে কিরিন কাপের একটি প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল হাজিমে মরিয়াসুর দল। সেই আত্মবিশ্বাস এবং ওই ম্যাচের বেশ কয়েকজন ফুটবলার স্কোয়াডে থাকায় আজ ব্রাজিলের জন্য লড়াইটা মোটেও সহজ হবে না।
চলতি বিশ্বকাপে 'সি' গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে এসেছে ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও পরের দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় কার্লোস আনচেলত্তির শিষ্যরা। অন্যদিকে, 'এফ' গ্রুপে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ২-২ এবং সুইডেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পাশাপাশি তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে জাপান। জাপানের এই দলে রয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ইউতো নাগাতোমো, যিনি এশিয়ার প্রথম ও একমাত্র ফুটবলার হিসেবে ৫টি বিশ্বকাপ খেলার অনন্য কীর্তি গড়েছেন।
২৪ বছরের খরা কাটিয়ে এবার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ বা 'হেক্সা' জয়ের লক্ষ্যে মরিয়া ব্রাজিল। দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে সশরীরে হাজির হয়েছেন ব্রাজিলের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তারকারা। রোনাল্ডো নাজারিও, কাফু, রবার্তো কার্লোস, কাকা, রিভালদো ও বেবেতোর মতো কিংবদন্তিরা দলের হোটেল ও অনুশীলনে গিয়ে নেইমার-ভিনিসাসদের সাহস জোগাচ্ছেন। এছাড়া ব্যক্তিগত সফরে থাকা রোনালদিনহো এবং বিশ্লেষক হিসেবে আসা রোমারিও দলের খেলোয়াড়দের পিঠ চাপড়ে বিশ্বকাপ জয়ের মন্ত্র দিচ্ছেন।
ব্রাজিল শিবিরের সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো দলের পোস্টার বয় নেইমারের প্রত্যাবর্তন। ফিটনেস সমস্যার কারণে প্রথম দুই ম্যাচ মিস করার পর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ আধা ঘণ্টা মাঠে ছিলেন তিনি। ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলে ফিরে ১৩টি পাসের ১২টিই নিখুঁত করে নিজের প্রস্তুতির জানান দিয়েছেন নেইমার। আজ জাপানের বিপক্ষে শুরু থেকেই তাকে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে কোচ আনচেলত্তির।
পাশাপাশি দুর্দান্ত ছন্দে আছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসাস জুনিয়র, যিনি গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে মোট ৪টি গোল নিজের ঝুলিতে পুরেছেন। ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাস বলছে—১৯৭০ সালে জায়ারজিনহো, ১৯৯৪ সালে রোমারিও এবং ২০০২ সালে রিভালদো ও রোনাল্ডো গ্রুপ পর্বের টানা তিন ম্যাচে গোল করেছিলেন এবং প্রতিবারই ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ভিনিসাসের এই টানা গোল করার ধারাবাহিকতা তাই ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মনে ২৪ বছর পর আবারও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বুনে দিচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, নেইমার-ভিনিসাসের ব্রাজিল কি কোয়ার্টার ফাইনালের দিকে একধাপ এগিয়ে যাবে, নাকি ২০২৫ সালের মতো আবারও কোনো বড় চমক উপহার দেবে জাপান!
মন্তব্য করুন