
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার পরও যেন শেষ হচ্ছিল না ম্যাচ। যোগ করা সময়ের প্রতিটা সেকেন্ড ছিল ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একেকটি যুগ। অবশেষে রেফারির শেষ বাঁশি যখন বাজল, তখন ঘড়ির কাঁটায় চলছে ম্যাচের যোগ করা সময়ের (Injury Time) ১১তম মিনিট! মাঠের ভেতরে জাপানের তৈরি করা চরম স্নায়ুযুদ্ধ ও পরীক্ষা পার করে ২-১ গোলের মহানাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। আর এই রুদ্ধশ্বাস জয়ের সাথে সাথেই নিশ্চিত হয়ে গেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সেলেসাওদের বিশ্বকাপের ‘শেষ ষোলো’ বা নকআউট পর্বের টিকিট।
জাপানি ঝড়ে শুরুতেই ব্যাকফুটে ব্রাজিল
ম্যাচের প্রথমার্ধে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের স্তব্ধ করে দিয়েছিল এশিয়ান পরাশক্তি জাপান। ম্যাচের শুরুতেই এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্লু সামুরাইরা। জাপানের ক্ষিপ্র গতি আর জমাট ডিফেন্সের সামনে প্রথমার্ধে গোল শোধের কোনো পথই খুঁজে পাচ্ছিল না ব্রাজিল। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় সেলেসাওদের।
কাসেমিরোর বুলেট হেডারে স্বস্তির সমতা দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রণকৌশল নিয়ে মাঠে নামে ব্রাজিল। ক্রমাগত আক্রমণের চাপ ধরে রাখার ফল তারা পায় ম্যাচের ৫৬তম মিনিটে।
কাসেমিরোর গোল (১-১) : জাপানের ডি-বক্সের ভেতরে তৈরি হওয়া এক জটলা থেকে উড়ে আসা বলে দারুণ টাইমিংয়ে এক জোরালো বুলেট হেড করেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। জাপানি গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বলটি জালে জড়ালে ১-১ সমতায় ফেরে ব্রাজিল।
জয়সূচক গোল ও ১১ মিনিটের অন্তহীন স্নায়ুযুদ্ধ
সমতায় ফেরার পর জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। আক্রমণের ধারা বজায় রেখে ম্যাচের শেষভাগে আরও একটি চমৎকার ফিল্ড গোল করে ২-১ ব্যবধানে লিড নেয় সেলেসাওরা।
তবে আসল নাটকের তখনও বাকি ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে রেফারি ইনজুরি টাইম বাড়িয়ে দেন। সমতায় ফিরতে মরিয়া জাপান অলআউট আক্রমণ শুরু করে ব্রাজিলের ডেরায়। ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের একের পর এক দুর্দান্ত সেভে বারবার রক্ষা পায় দল। অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের ১১তম মিনিটে রেফারির শেষ বাঁশি বাজলে মাঠের ভেতরেই উল্লাসে ফেটে পড়েন ভিনিসিয়ুস-কাসেমিরোরা। এই জয়ে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নকআউটের মঞ্চে পা রাখল সেলেসাওরা।
মন্তব্য করুন