
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে দেশের অর্থনীতি প্রায় খাদের কিনারে পৌঁছে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বক্তব্যের শুরুতে একটি গল্পের উদ্ধৃতি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এবং দলের প্রয়াত জ্যেষ্ঠ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, ড. আর এ গণি, তরিকুল ইসলাম ও আ স ম হান্নান শাহসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রাখা নেতাদের স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে দেশ ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী শাসনের মধ্য দিয়ে গেছে। এতে জাতি বিভক্ত হয়েছে, মানুষ নিহত হয়েছে এবং দেশের মানুষের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। সেই সময় অর্থনীতি প্রায় খাদের কিনারে পৌঁছে যায়। বর্তমান বাজেটের মাধ্যমে সেই অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা।
বাজেটের তিনটি প্রধান লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, পরবর্তী তিন বছরে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, আর্থিক খাত পুনর্গঠন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ করা হবে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর ও উদ্ভাবননির্ভর বাণিজ্য সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপি সবসময় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সফল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার পতনের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করেছিল।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও প্রশংসা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ২০০২ সালে খালেদা জিয়ার চীন সফরের সময় তারেক রহমান সফরসঙ্গী ছিলেন। সে সময় চীনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তার প্রতি যে আস্থা প্রকাশ করেছিলেন, আজ তারেক রহমান সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়ে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের পতাকা বহন করে দেশের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মান বয়ে এনেছেন।
তরুণ প্রজন্মের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বে সফল গণঅভ্যুত্থান দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তারা ভবিষ্যতে আরও সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন