
যশোরের মণিরামপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও দুর্নীতিবিরোধী চেতনা জাগ্রত করার লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উদ্যোগে একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. সম্রাট হোসেন বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়; সমাজের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা ও দায়িত্ববোধের চর্চা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই নৈতিক শিক্ষা, দেশপ্রেম এবং জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক, প্রশাসক ও সচেতন নাগরিক। তাই তাদের মধ্যে সততার বীজ বপন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমীন ও মণিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মজনুর রহমান।
প্রতিযোগিতায় সততা সংঘের সদস্যদের অংশগ্রহণে দুটি গ্রুপের মধ্যে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। গ্রুপ ‘ক’-এর বিষয় ছিল ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামাজিক মূল্যবোধের তুলনায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রয়োজন’ এবং গ্রুপ ‘খ’-এর বিষয় ছিল ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে যুবসমাজের সক্রিয়তা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার চাইতেও কার্যকর’।
পরে উভয় গ্রুপের বিজয়ী দলের মধ্যে চূড়ান্ত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় ‘দুর্নীতি নির্মূলে সামাজিক মূল্যবোধের পুনরুদ্ধার প্রশাসনিক সংস্কারের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক বিষয়ে। মণিরামপুর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মো. মুহিব বুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম মিঠুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মাসুদ হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুদকের সহকারী পরিদর্শক সুমিত দাস, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন দুষ্টু, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি জিএম ফারুক আলম, সদস্য উম্মে হাবিবা, উন্নয়নকর্মী সুরাইয়া নার্গিসসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মণিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মফিজুর রহমান, পিন্টু কুমার সাধু খাঁ, উপজেলা গ্রাম আদালত সমন্বয়কারী অনুপম কুমার ঘোষ এবং শিক্ষক আব্দুস সবুর। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম, সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম তালুকদার, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তছির উদ্দীন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রধান শিক্ষক হামিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথি বিজয়ী দলের সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। সভায় বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, ন্যায়বোধ, দেশপ্রেম ও দুর্নীতিবিরোধী চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নৈতিক ও জবাবদিহিমূলক সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ও সহযোগিতায় ছিল উপজেলা প্রশাসন।
মন্তব্য করুন