
বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অসামান্য অবদান রাখা বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন তিনি।
বুধবার (১০ জুন) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৬’-এর কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ শ্রদ্ধা জানান।
প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। তবে চলতি বছর ওই সময়ে ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি থাকায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশে দিবসটি ১০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৫ সালে সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে শাহাদাতবরণকারী ছয়জন বাংলাদেশি সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
তিনি শহীদ সেনাসদস্যদের স্ত্রীদের হাতে সম্মাননা প্রদান করে তাদের আত্মত্যাগের প্রতি জাতির গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
একই অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে আহত হওয়া বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাদের সাহসিকতা, দায়িত্ববোধ এবং পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং আত্মনিবেদন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তাদের আত্মত্যাগ ও সাফল্য বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
এ সময় তিনি তাদের খোঁজখবর নেন, কুশল বিনিময় করেন এবং দায়িত্ব পালনে তাদের সাফল্য কামনা করেন। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত সদস্যরাও দেশের নেতৃত্বের এমন স্বীকৃতি ও উৎসাহকে অনুপ্রেরণাদায়ক বলে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ বর্তমানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন