
একদিন পরই পর্দা উঠছে বহুল প্রতীক্ষিত ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬-এর। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসরকে ঘিরে সমর্থকদের উত্তেজনা এখন চরমে। প্রিয় দলের সম্ভাব্য একাদশ, তারকাদের ফর্ম এবং শিরোপা লড়াই নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। এমন সময় নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
বুধবার (১০ জুন) অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল লিওনেল মেসির অনুপস্থিতি। তবে শুরুর একাদশে অধিনায়ককে না পেয়েও আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে লিওনেল স্কালোনির দল।
ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ভ্যালেন্টিন বারকোর শক্তিশালী ও নিখুঁত শট আইসল্যান্ডের জালে জড়িয়ে গেলে ১-০ ব্যবধানে লিড পায় আলবিসেলেস্তেরা।
গোলটি আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে ধারাবাহিক আক্রমণ চালাতে থাকে দক্ষিণ আমেরিকার জায়ান্টরা।
যদিও ম্যাচের শুরুতে আর্জেন্টিনাকে কিছুটা চাপে ফেলেছিল আইসল্যান্ড। নিকো পাজের একটি আক্রমণ ব্যর্থ হওয়ার পর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে ইউরোপের দলটি।
এলার্টসন গোলের সামনে দারুণ সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। তার নেওয়া শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন তরুণ মিডফিল্ডার নিকো পাজ। তার দ্রুতগতির খেলা, সৃজনশীল পাসিং এবং বল নিয়ন্ত্রণ আইসল্যান্ডের রক্ষণভাগকে বারবার সমস্যায় ফেলেছে।
এক পর্যায়ে লোপেসকে অসাধারণ একটি পাস দিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সুযোগ থেকে গোল আদায় করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। পরে বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া একটি ফ্রি-কিকও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
মাঝেমধ্যে লম্বা বল ও থ্রো-ইনের মাধ্যমে চাপ তৈরির চেষ্টা করেছে আইসল্যান্ড। বিশেষ করে ড্যানিয়েল লিও গ্রেতারসনকে লক্ষ্য করে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা দেখা গেছে।
তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ছিল বেশ গোছানো ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। ফলে গোলরক্ষক জেরোনিমো রুলিকে খুব বেশি কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও আক্রমণের গতি বাড়ায় আর্জেন্টিনা। বাম প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে সিমিওনের নেওয়া শট সহজেই প্রতিহত করেন আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক। এরপর নিকো পাজও বক্সের ভেতরে একটি ভালো সুযোগ পেলেও গোল করতে ব্যর্থ হন।
প্রথম ৪৫ মিনিটে বলের দখল, আক্রমণের ধার এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ—সবদিক থেকেই স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। মেসিকে ছাড়াই আত্মবিশ্বাসী ও পরিণত ফুটবল উপহার দিয়েছে স্কালোনির দল।
তবে ম্যাচের শুরুতে আইসল্যান্ড যে আক্রমণাত্মক হুমকির আভাস দিয়েছিল, তাতে দ্বিতীয়ার্ধে কোনো ধরনের আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতিকে আরও নিখুঁত করতে বাকি সময়েও একই মনোযোগ ধরে রাখতে হবে আর্জেন্টিনাকে।
মন্তব্য করুন