
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেছেন, ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা বা হুমকির জবাব দেওয়া হবে কঠোরভাবে এবং তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের আলোচনা শুরু হলে এ মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ার পরও ওয়াশিংটন ইরানের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা কিংবা হুমকিকে জবাবহীন রাখবে না।” একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্দেশে আরও বলেন, “নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।
এর আগে সিএনএনকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক সামরিক অভিযানগুলো মূলত Strait of Hormuz অঞ্চলে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যেকোনো সামরিক সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আরাগচির এই বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল গভীরভাবে নজর রাখছে, কারণ এই উত্তেজনা আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন