
বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল নাম, কিংবদন্তি খেলোয়াড় ও সংগঠক আবদুস সাদেক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে শনিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে শনিবার বাদ আসর, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে। দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বনানী ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে।
আবদুস সাদেক অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। হকির পাশাপাশি তিনি ফুটবল ও ক্রিকেটেও সমান দক্ষতার পরিচয় দেন।
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের প্রথম ফুটবল ও হকি অধিনায়ক হিসেবে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন।
১৯৬৯ সালে পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের হয়ে ইউরোপ সফরে অংশ নেন আবদুস সাদেক। ওই সফরে জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন তিনি। সফর শেষে মিশরের বিপক্ষেও একটি ম্যাচে অংশ নেন এবং দ্রুতই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে তিনি জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে কুমিল্লা জেলা দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে তিনি আবাহনীর প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে ওই মৌসুমে আবাহনী কোনো ম্যাচেই পরাজিত হয়নি। মাত্র তিনটি ম্যাচ ড্র করে বাকি সব ম্যাচে জয় পেয়ে দলটি বাংলাদেশের প্রথম অপরাজিত লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
আবদুস সাদেকের ছোট ভাই ছিলেন দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। তাঁর বড় ছেলে ইশতিয়াক সাদেক টি স্পোর্টসের সিইও ও একজন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন আবদুস সাদেকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন
১৯ জুন ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম