
অস্বাভাবিক ধস নেমেছে পটোলের দামে। মাঠ থেকে পটোল সংগ্রহ করে পাইকারি বাজারে নিয়ে গিয়ে মাত্র পাঁচ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে চাষীদের। দুই সপ্তাহ আগেও যে পটলের দাম ৪০-৪৫ টাকা কেজি ছিল, তা এখন মাত্র পাঁচ টাকা। পটলের অস্বাভাবিক এই দরপতনে, খেত থেকে তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন কোনো কোনো কৃষক।
এতে মাঠেই পেকে পচে নষ্ট হচ্ছে অনেকের প্রিয় এই সবজি। আবার কেউ কেউ খেতে উৎপাদিত পটল তাদের গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন। পটলের মূল্যহ্রাসে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষীরা। তবে খুচরা বাজারে পটল ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেল। পাইকারী থেকে খুচরা বাজারের মধ্যে কেন এই ফারাক? প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য সরেজমিন শনিবার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বারোবাজারের পাইকারি হাট ঘুরে দেখা যায় প্রতি কেজি পটল ৫ থেকে ৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উল্লেখ্য উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়নের মহিষাহাটি, হাসিলবাগ, পিরোজপুর, ফুলবাড়ী, মঙ্গল পৌতা, মাজদিয়া।কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া, কাষ্টভাঙ্গা গৌরীনাথপুর, রামপুর। রাখালগাছি ইউনিয়নের এনায়েতপুর, কুল্লাপাড়া, খোশালপুর, নরদহী ও সুবিদপুর ব্যাপক হারে পটলের চাষ হয়ে থাকে।
মহিষাহাটী গ্রামের পটল চাষি মুরাদ হোসেন , বলেন, ১০ কাঠা জমিতে পটল চাষ করেছি। ফলনও হয়েছে খুব ভাল। বারোবাজার ও বারীনগর (সাতমাইল) বাজারে পটল বিক্রি করি। ৫-৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পটল। পটল তোলা, শ্রমিক খরচ, যাতায়াত খরচ করে এই পটল বাজারজাত করতে গিয়ে আরও বেশি লোকসান হচ্ছে। দাম কমে যাওয়ায় তিন চালান পটল তোলা বন্ধ করে দিয়েছি। এতে আমরা ক্ষতির মুখে পড়েছি।
দাম নিম্নমুখী হওয়ার কারণ কি জানতে চাইলে তিনি প্রকৃত কারণ বলতে না পারলেও আশঙ্কা করলেন মধ্যসত্ত্বভোগীদের কারসাজির। তিনি বলেন, আমাদের মাঠে অনেক চাষি পটল চাষ করে। খুব বেশি যে পটল হয়েছে তাও না। কুরবানি ঈদের দশ দিন আগে থেকেই এই দরপতন বলে উল্লেখ করেন তিনি। দম কমের কারণে আর পটল তুলি না। মাঠেই পেকে নষ্ট হচ্ছে এক সময়ের দামি এই সবজি। সাত আট মাসে ১০ কাটা জমিতে পটল চাষে ৮০-৮৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ৫৫-৬০ হাজার টাকার বিক্রি করতে পেরেছেন মুরাদ ।
জাকির নামে আরেকজন চাষি বলেন, আমি ১৫ কাটা জমি লিজ নিয়ে পটল চাষ করেছি। পাঁচ টাকা কেজি দরে বর্তমানে পটল বিক্রি করছি। সর্বশেষ ৫ মণ পটল বাজারে নিয়ে গিয়েছি। ২০০ টাকা মন দরে বিক্রি করেছি।
কুরবানি ঈদের আগে অর্থাৎ মে মাসের ১০-১৫ তারিখের মধ্যে পটলের পাইকারি দাম পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৩০-৩৫ টাকা কেজি। সেই পটল এখন মাত্র পাঁচ টাকা কেজি। এতে চরম হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি।সপ্তাহে ১০০০-১৫০০ টাকা খরচ হয় জমি পরিচর্যায়। লিজ নিয়ে যে পরিমান খরচ করেছেন সেই টাকা তুলতে তার হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই গ্রামের সব পটল চাষির একই অবস্থা বলে জানালেন তারা।
তারা বলেন, কেজিতে ১৫ টাকা করে পেলেও লোকসান হবে না। তবে পটলের এরকম অস্বাভাবিক দরপতন অতিতে হয়নি। সরকারের কাছে কৃষকদের দাবি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষে খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ন্যায্য দাম প্রাপ্তিতে সরকারের ভূমিকা রাখার দাবি তাদের।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন খুচরা কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি দোকানে পটল রয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।
তাদের কাছে জানতে চাইলে, পাইকারি বাজার থেকে ১০ টাকা কেজি দরে কিনেছেন বলে জানালেন। অর্থাৎ মাঠ থেকে খুচরা পর্যায়ে পটলের দামে প্রায় ১৫ টাকার পার্থক্য পাওয়া গেল। মধ্যসত্বভোগীদের পকেটে যাচ্ছে সিংহভাগ টাকা। কৃষকরা পাচ্ছেন যত সামান্য। বাজারের এই অসামঞ্জস্য পার্থক্যে চরম হতাশ চাষি।
বারোবাজার হাট ইজারা ব্যবসায়ী শফি কামাল সবুজ বলেন, আসলে পটলের দাম অস্বাভাবিক হারে কমেছে কৃষকের মুখের দিকে তাকালে কষ্টের ছোঁয়া দেখা যায়। তবে পাইকারি বাজার ছাড়া তিনগুণ বেশি দামে খুচরো বাজারে বিক্রি হওয়ার বিষয়টা আমরা দাম কম রাখার জন্য অনুরোধ করব।
মন্তব্য করুন
১৯ জুন ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম