
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কথিত কলরেকর্ডের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শাহজাহান চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য। তিনি ১৯৯১, ২০০১ এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে সংসদ সদস্যের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত আরমান উদ্দিনের কণ্ঠ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কথোপকথনে অংশ নেওয়া দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের কণ্ঠ আরমান উদ্দিনের। অপর প্রান্তের ব্যক্তি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত মো. তারেকুল হক। তিনি লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের রশিদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া অডিওতে তারেকুলকে বলতে শোনা যায়, ‘লোহাগাড়ায় এমপি কেন আসবে? আসলে পায়ে গুলি করে জিজ্ঞেস করবো, কেন এসেছে? এখানে আরমান সাহেবের কথাই চলবে।’ জবাবে আরমান উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, ‘এমপিকে তো লোহাগাড়ায় না আসতে বলি। তারপরেও লোকজনের জ্বালায় আসে।’
কথোপকথনের এক পর্যায়ে তারেকুল নামের ওই যুবদল নেতা আরও বলেন, ‘বাদশা খালেদের মতো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থাকবো।’ জবাবে আরমান উদ্দিন বলেন, ‘এসব করলে পুলিশ আসবে, আর্মি আসবে, এমপি আসবে।’
তবে এই অডিও ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত পিএ আরমান উদ্দিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং যুবদল কর্মী মো. তারেকুল হকের মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘ফাঁস হওয়া অডিওর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অডিওর সত্যতা, উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন