
দেশজুড়ে কোটি শিশুর উচ্ছ্বাস, হাজারো বিদ্যালয়ের প্রাণচাঞ্চল্য এবং খেলাধুলার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬ এখন চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছে। আগামী ২০ জুন বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় ফাইনাল।
প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে, যা অংশগ্রহণকারীর সংখ্যার বিচারে এটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিশু ফুটবল উৎসবে পরিণত করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, সরকারের লক্ষ্য আগামী বছরগুলোতে ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত অন্তত ৫০ লাখ শিক্ষার্থীকে এই টুর্নামেন্টের আওতায় আনা।
তিনি বলেন, শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বগুণ এবং প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যেই গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতেই প্রতিবছর এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়।
এবারের আসরে বালক ও বালিকা উভয় দল সমান সুযোগে অংশগ্রহণ করেছে, যা জেন্ডার সমতা ও নারী ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন ১৬টি দল অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আটটি বালক ও আটটি বালিকা দল। দীর্ঘ বাছাইপর্ব পেরিয়ে সেরা দলগুলো এখন জাতীয় শিরোপার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে।
টুর্নামেন্টের কার্যক্রম শুরু হয় গত ৬ এপ্রিল ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ের খেলার মাধ্যমে। এরপর উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে ৪ জুন জাতীয় পর্যায়ের খেলা শুরু হয় এবং প্রথম পর্ব শেষ হয় ৮ জুন। আগামী ২০ জুনের ফাইনালকে ঘিরে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
এবারের ফাইনালকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহের কারণ, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার উপস্থিতিতে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, গোল্ডকাপ থেকে উঠে আসা মেধাবী খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিতে সরকার নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ফিফা এবং বিশ্ব ফুটবলের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের চ্যাম্পিয়ন দল ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং ক্যাম্প আয়োজন কিংবা বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই, আজকের এই গোল্ডকাপের বিজয়ী শিশুরাই আগামী দিনে বিশ্বমানের ফুটবলার হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করুক।’
টুর্নামেন্ট আয়োজকরা জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ এখন আর কেবল একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়; এটি শিশুদের সুস্থ বিকাশ, আত্মবিশ্বাস গঠন, নেতৃত্বের বিকাশ এবং জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলার এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। ২০ জুনের ফাইনাল সেই স্বপ্নযাত্রার আরেকটি উজ্জ্বল মাইলফলক হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা সবার।
বর্তমানে দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। প্রাথমিক শিক্ষা তথ্য ব্যবস্থাপনা (ওচঊগওঝ) অনুযায়ী, এসব বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার। এর মধ্যে বালক ৪৬ লাখ ১১ হাজার ৯৯৬ জন এবং বালিকা ৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন।
মন্তব্য করুন