
বিশ্ব ফুটবলের পরিচিত উদযাপনগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘গগলস সেলিব্রেশন’। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দর্শকদের কাছে এটি বিশেষভাবে পরিচিত। এবার সেই উদযাপন বিশ্বকাপের মঞ্চেও দেখা গেল স্কটল্যান্ডের মিডফিল্ডার জন ম্যাকগিনের কাছ থেকে। তার একমাত্র গোলেই হাইতিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ পেল স্কটল্যান্ড।
বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে ফক্সবরোর বস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে প্রথম ইউরোপিয়ান দল হিসেবে টুর্নামেন্টে জয় তুলে নেয় স্কটিশরা। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে প্রথমার্ধে, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
জন ম্যাকগিনের ‘গগলস’ উদযাপন শুধু আনন্দ প্রকাশের মাধ্যম নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পারিবারিক আবেগও। দুর্বল দৃষ্টিশক্তির কারণে তার ভাগ্নে জ্যাক সুরক্ষামূলক স্পোর্টস গগলস পরে খেলাধুলা করেন। ভাগ্নের প্রতি ভালোবাসা থেকেই গোল করার পর বুড়ো আঙুল ও তর্জনী দিয়ে চোখের সামনে গগলসের আকৃতি তৈরি করে উদযাপন করেন ম্যাকগিন। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে সেই উদযাপন আবারও দর্শকদের নজর কাড়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্কটল্যান্ড। সপ্তম মিনিটে জন ম্যাকগিনের চমৎকার ব্যাকহিল থেকে সুযোগ তৈরি হলেও স্কট ম্যাকটমিনের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
১৭তম মিনিটে আবারও গোলের খুব কাছে পৌঁছে যায় স্কটিশরা। বেন গ্যানন-ডোকের পাস থেকে ম্যাকটমিনের শক্তিশালী শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
তবে ২৮তম মিনিটে আর ভুল করেনি স্কটল্যান্ড। চে অ্যাডামসের দারুণ স্পর্শ থেকে বল পান বেন গ্যানন-ডোক। তিনি বক্সের ভেতরে বল বাড়িয়ে দেন জন ম্যাকগিনের দিকে। স্কটিশ মিডফিল্ডারের শট দুই ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। গোলকিপারের কিছুই করার ছিল না।
৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা হাইতি ম্যাচজুড়ে দারুণ লড়াই করলেও গোল করতে ব্যর্থ হয়। বল দখলের লড়াইয়ে দুই দল প্রায় সমানে সমান ছিল। বরং শট নেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল হাইতি।
ম্যাচে হাইতি মোট ১৩টি শট নেয়, যেখানে স্কটল্যান্ড নেয় ৮টি। তবে লক্ষ্যে ছিল দুই দলেরই ৩টি করে শট।
প্রথমার্ধের শেষ ভাগ এবং দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ১৫ মিনিটে স্কটল্যান্ডের রক্ষণে বেশ চাপ সৃষ্টি করে হাইতি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ক্যারিবিয়ান দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ব্যস্ত থাকলেও খুব বেশি পরিষ্কার সুযোগ তৈরি হয়নি। ৭২তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন জন ম্যাকগিন। বাম দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নেওয়া তার বাঁ পায়ের শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়।
অন্যদিকে ৮৪তম মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরানোর সেরা সুযোগ পায় হাইতি। অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ফঁসদি পিহোর হেড ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে গেলে হতাশ হতে হয় তাদের।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে স্কটল্যান্ড। গ্যালারিতেও আনন্দে মেতে ওঠেন সমর্থকেরা।
বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের সর্বশেষ জয় এসেছিল ১৯৯০ সালে সুইডেনের বিপক্ষে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে স্মরণীয় সূচনা করল তারা।
‘সি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে মরক্কো ও ব্রাজিল ১-১ গোলে ড্র করেছে। ফলে প্রথম ম্যাচ শেষে গ্রুপে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে স্কটল্যান্ড।
মন্তব্য করুন