
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার অনন্য এক কীর্তি গড়লেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ঐতিহাসিক এই উপলক্ষটিকে তিনি কেবল মাঠের উপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, গোল করে রাঙানোর পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া দলকে এনে দিয়েছেন স্বস্তি।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে টরন্টোয় অনুষ্ঠিত শেষ বত্রিশের হাইভোল্টেজ ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করেন পর্তুগিজ মহানায়ক। এদিন মাঠে নামার সময় পর্তুগাল অধিনায়কের বয়স ছিল ৪১ বছর ১৪৭ দিন। এর মাধ্যমে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে সবচেয়ে বেশি বয়সে খেলার নতুন রেকর্ড গড়লেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা হিসেবেও নিজের নাম লেখালেন এই পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার।
এর আগে, মাত্র একদিন আগে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে) যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে ৪০ বছর ১০৬ দিন বয়সে মাঠে নেমে প্রথম ৪০-ঊর্ধ্ব আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার এদিন জেকো। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জেকোর সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন রোনালদো।
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের নকআউটে ৪০ বছরের বেশি বয়সী খেলোয়াড়দের এই এলিট ক্লাবে যুক্ত হয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদ্রিচও, যিনি আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ৪১ বছর বয়সে পা রাখবেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণের দিক থেকে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করলেও গোলমুখ খুলতে পারেনি পর্তুগাল। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে ইভান পেরিসিচের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। তবে ক্রোয়াটদের সেই লিড স্থায়ী হতে দেননি রোনালদো। ১৫ মিনিট পরই পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান তিনি।
পর্তুগালের একটি কর্নার কিকের সময় ক্রোয়েশিয়ার নিকোলা ভ্লাসিচ নিজেদের ডি-বক্সে খেনাতো ভাইগাকে টেনে ফেলে দিলে ভিএআর রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। মনিটর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান তিনি। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথার সোজাসুজি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন রোনালদো, ক্রোয়াট গোলরক্ষক ততক্ষণে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
ম্যাচের ৬১তম মিনিটে জোয়াও কান্সেলোর ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে আরও একবার বল জালে পাঠিয়েছিলেন রোনালদো। তবে সামান্য ব্যবধানে অফসাইড হওয়ায় বাতিল হয় সেই গোলটি।
চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুটি গোল করেছিলেন সিআরসেভেন। এক ম্যাচ বিরতি দিয়ে নকআউট পর্বে আবার জালের দেখা পেলেন তিনি।
তবে এই গোলটি রোনালদোর ক্যারিয়ারে একটি বিশেষ অপূর্ণতা দূর করল। এর আগে বিশ্বকাপে তাঁর করা ১০টি গোলের প্রতিটিই ছিল গ্রুপ পর্বে। নকআউট পর্বে গোল না পাওয়ার সেই দীর্ঘ খরা কাটল আজ। এই গোলের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ২৩২ ম্যাচে ১৪৬টি।
মন্তব্য করুন