
প্রথম প্রথমার্ধের মারামারি, ফাউল আর বারুদে ঠাসা গোলশূন্য ড্রয়ের পর অবশেষে ভাঙল ডেডলক! আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে চলমান বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। ডেক্লান রাইস, মরগান রজার্স ও অ্যান্থনি গর্ডনের এক নিখুঁত ও অবিশ্বাস্য দলীয় রসায়নে পরাস্ত হলো আলবিসেলেস্তেদের বিশ্বস্ত রক্ষণভাগ। এই গোলের মাধ্যমে ১৯৬৬ সালের পর নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার স্বপ্নকে মুঠোয় পুরতে শুরু করেছে গ্যারেথ সাউথগেটের শিষ্যরা।
গতি ও পাসের অবিশ্বাস্য রসায়ন: যেভাবে এলো ইংল্যান্ডের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ প্রথমার্ধের শারীরিক ফুটবলের ধাক্কা কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই খোলস ছেড়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে। তবে গোলের চাবিকাঠিটি প্রথম বের করতে পেরেছে ইংল্যান্ড।
ডেক্লান রাইসের জাদুকরী ভিশন: মাঝমাঠ থেকে আক্রমণের সূত্রপাত করেন ডেক্লান রাইস। তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডানপ্রান্তে ফাঁকায় থাকা মরগান রজার্সকে লক্ষ্য করে একটি নিখুঁত পাস বাড়ান।
রজার্সের পাস ও গর্ডনের বুলেট গতি: বল পেয়েই রজার্স আর্জেন্টিনার ডিফেন্সকে বিভ্রান্ত করতে এক চতুর ক্রস বা পাস খেলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে বামপ্রান্ত থেকে চিতার গতিতে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের বোকা বানিয়ে ডিফেন্সিভ লাইনের পেছনে রান নেন অ্যান্থনি গর্ডন।
স্তব্ধ এমিলিয়ানো মার্টিনেজ: বল নিয়ন্ত্রণে নিয়েই গর্ডন কোনো ভুল না করে ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত শটে বল আর্জেন্টিনার জালে জড়িয়ে দেন। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ ঝাঁপিয়ে পড়ার আগেই বল গোললাইন অতিক্রম করে। সাথে সাথেই আটলান্টার স্টেডিয়ামের এক অংশ ইংলিশ সমর্থকদের বাঁধভাঙা জয়োল্লাসে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব ও ব্যর্থতার বিশ্লেষণ
ইংলিশ আক্রমণভাগের অনবদ্য কৃতিত্ব: ডেক্লান রাইসের চমৎকার খেলা তৈরির ক্ষমতা এবং রজার্সের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশংসা করতেই হয়। তবে আসল কৃতিত্ব অ্যান্থনি গর্ডনের, যিনি আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অফসাইড ট্র্যাপ ভেঙে ফাঁকা জায়গায় অবিশ্বাস্য গতিতে রান নিয়ে নিখুঁত ফিনিশিং দিয়েছেন।
আর্জেন্টাইন ডিফেন্সের বড় ব্যর্থতা: প্রথমার্ধে দুর্দান্ত খেলা আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ এই এক মুহূর্তের অসতর্কতায় সম্পূর্ণ ছিটকে যায়। গর্ডন যখন বামপ্রান্ত থেকে ভেতর দিকে ঢুকছিলেন, তখন আর্জেন্টিনার সেন্ট্রাল ডিফেন্ডাররা তাকে ট্র্যাক ব্যাক করতে এবং অফসাইড ট্র্যাপ কার্যকর করতে মারাত্মক ভুল করেন। ডেক্লান রাইস ও রজার্সকে বক্সে অতিরিক্ত ফাঁকা জায়গা ছেড়ে দেওয়া ছিল আলবিসেলেস্তেদের জন্য বড় খেসারত।
কৌশলগত দ্বৈরথ: কোণঠাসা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা
১-০ গোলে পিছিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা এখন চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখে। শিরোপা ধরে রাখার মিশন টিকিয়ে রাখতে এবং রোববারের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হতে হলে লিওনেল মেসির দলকে এখন অল-আউট আক্রমণে উঠতে হবে। অন্যদিকে, লিড নেওয়া ইংল্যান্ড চাইবে ডিফেন্স আরও জমাট করে প্রতি-আক্রমণে আর্জেন্টিনার ফেরার পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে এখন চরম উত্তেজনা!
মন্তব্য করুন