
গরমে শরীর থেকে ঘাম হওয়া একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘাম বের হয়। তবে অনেকেই আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলেও অতিরিক্ত ঘাম বা ঘামের দুর্গন্ধের সমস্যায় ভোগেন, যা দৈনন্দিন জীবনকে অস্বস্তিকর করে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে অন্য কোনো রোগ না থাকলেও স্নায়ুতন্ত্রের প্রভাবে ঘর্মগ্রন্থি অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে গেলে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। এছাড়া ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, মেনোপজ, মানসিক উদ্বেগ বা স্ট্রেসের কারণেও ঘাম বেড়ে যেতে পারে।
অতিরিক্ত ঘাম কমাতে যা করবেন
১. সুতির ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন ভ্যাপসা গরমে সিনথেটিক কাপড়ের পরিবর্তে সুতির পোশাক পরুন। ঢিলেঢালা পোশাক শরীরে বাতাস চলাচল সহজ করে এবং অতিরিক্ত ঘাম কমাতে সাহায্য করে।
২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করুন। সব সময় সঙ্গে পানির বোতল রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৩. মেথি ভেজানো পানি পান করুন এক চা-চামচ মেথি এক গ্লাস পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ছেঁকে খালি পেটে সেই পানি পান করলে অতিরিক্ত ঘাম কমাতে সহায়ক হতে পারে।
৪. চন্দনের ব্যবহার চন্দন বেটে শরীরের যেসব স্থানে বেশি ঘাম হয় সেখানে লাগিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বককে শীতল রাখার পাশাপাশি অতিরিক্ত ঘাম কমাতেও সহায়তা করতে পারে।
৫. চন্দন, আমলকি ও গোলাপজলের মিশ্রণ চন্দন, আমলকির গুঁড়া ও গোলাপজল মিশিয়ে শরীরে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে ঘামের সমস্যা কিছুটা কমতে পারে।
* রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েকটি কিশমিশ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেই পানিটুকু খেয়ে নিন। * খুব বেশি গরম খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। * তিতা এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার সম্ভব হলে একটু বেশি খাবেন। এতে ঘাম কম হবে। * অতিরিক্ত ঝাল ও টক জাতীয় খাবার খাওয়া কম খাবেন। এর বদলে অল্প তেল-মসলায় তৈরি খাবার খান।
যদি কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ঘাম হয়, রাতে ঘুমের মধ্যেও ঘামতে থাকেন অথবা ঘামের সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এটি কোনো অন্তর্নিহিত রোগের লক্ষণও হতে পারে।
মন্তব্য করুন