
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস নাটক! অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর যখন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্বপ্ন ভাঙার উপক্রম, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। মাঠের তীব্র চাপের মুখে এক নান্দনিক ও অবিশ্বাস্য দূরপাল্লার শটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-১ সমতায় ফেরালেন এই চেলসি তারকা। এনজোর এই মহাগুরুত্বপূর্ণ গোলে ম্যাচটিতে পুনরায় প্রাণ ফিরে এসেছে এবং ফাইনালে ওঠার লড়াই এখন আরও রোমাঞ্চকর মোড় নিয়েছে।
এনজোর জেদ ও শর্ট কর্নারের চাতুর্য: যেভাবে এলো সমতাসূচক গোল ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর আলবিসেলেস্তেরা সমতায় ফিরতে অল-আউট আক্রমণে ওঠে। এর কিছুক্ষণ আগেও গোল করার খুব কাছাকাছি গিয়েও ব্যর্থ হয়েছিলেন এনজো। তবে দমে যাননি এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডার।
চতুর শর্ট কর্নার ও ফাঁকা জায়গা: ম্যাচের এক চরম মুহূর্তে আর্জেন্টিনার পক্ষে কর্নার আদায় করা হলে দ্রুত শর্ট কর্নার নেওয়ার কৌশল অবলম্বন করে আর্জেন্টিনা। ইংলিশ ডিফেন্ডাররা যখন বক্সের ভেতরের খেলোয়াড়দের মার্কিংয়ে ব্যস্ত, তখন বক্সের ঠিক বাইরে বল পেয়ে যান এনজো ফার্নান্দেজ। তাকে ক্লোজ ডাউন করার জন্য কোনো ইংলিশ ডিফেন্ডার এগিয়ে আসার আগেই শট নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও জায়গা পেয়ে যান তিনি।
পিকফোর্ডকে পরাস্ত করা নির্ভুল শট: বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কোনো ভুল করেননি এনজো। অত্যন্ত নিখুঁত ও বাঁকানো এক জোরালো শটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। পিকফোর্ড সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেও বলের নির্ভুল গতিপথ ও বাঁকের কাছে পরাস্ত হতে হয় তাকে। সাথে সাথেই আটলান্টার স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বাঁধভাঙা গর্জনে চারপাশ কেঁপে ওঠে।
খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব ও ব্যর্থতার বিশ্লেষণ এনজো ফার্নান্দেজের অদম্য কৃতিত্ব: গোল হাতছাড়া করার হতাশাকে পেছনে ফেলে ঠান্ডা মাথায় আবারও সুযোগ তৈরি করা এবং বক্সের বাইরে থেকে অত নিখুঁত শট নেওয়া এনজোর বিশ্বমানের দক্ষতারই প্রমাণ। এছাড়া চতুরতার সাথে শর্ট কর্নার নেওয়া আর্জেন্টিনার সামগ্রিক কৃতিত্বের অংশ।
ইংলিশ ডিফেন্সের অমার্জনীয় ব্যর্থতা: ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর গ্যারেথ সাউথগেটের রক্ষণভাগ নিজেদের বক্সে অতিরিক্ত ডিফেন্সিভ মুডে চলে যায়। শর্ট কর্নারের সময় এনজো ফার্নান্দেজকে বক্সের ঠিক বাইরে অতখানি জায়গা ও শট নেওয়ার মতো অবারিত সময় ছেড়ে দেওয়া ইংলিশ ডিফেন্ডার ও মিডফিল্ডারদের মারাত্মক পজিশনিংগত ভুল। এই খেসারত দিয়ে লিড হারাতে হলো থ্রি লায়ন্সদের।
কৌশলগত দ্বৈরথ: ম্যাচ এখন ফুটন্ত কড়াই ১-১ সমতায় ফেরার পর ম্যাচের আবহ এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা এখন মানসিকভাবে দারুণ উজ্জীবিত, অন্যদিকে হাতের মুঠো থেকে লিড ফসকে যাওয়ায় ইংল্যান্ডের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। রোববারের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হতে এই শেষ মুহূর্তে ভুল করলেই বিদায়। এমনই এক স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে আটলান্টার মাঠ।
মন্তব্য করুন