
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান একটি ইলেকট্রনিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জানিয়েছে।
উভয় দেশের কর্মকর্তাদের দাবি, চুক্তিটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে এবং এর আওতায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে—ইরান ভবিষ্যতে কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ক্রয় করবে না, সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত রাখা হবে।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া গেছে। যদিও লেবানন-সংক্রান্ত বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।
সমঝোতা ঘোষণার পর হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম চুক্তিটিকে ‘বড় বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যেকোনো আলোচনা পারস্পরিক নিরাপত্তা ও সীমান্ত স্থিতিশীলতার বিষয়কে কেন্দ্র করেই হওয়া উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এর কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন