
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ডিপো এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর এবার মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
শনিবার (২৭ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই পাল্টা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে কোন কোন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু ছিল কিংবা হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলাকে "উসকানিমূলক" বলে উল্লেখ করে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপের জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজগুলো থেকে সম্প্রতি টোল আদায়ের ঘোষণা দেয় ইরান। একই সাথে জানানো হয়, হরমুজ ব্যবহারের আগে ইরানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
এই সিদ্ধান্তের জেরে গত বৃহস্পতিবার ওমান উপকূল দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’র ওপর বিস্ফোরক ড্রোন হামলা চালায় আইআরজিসি। এর ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ডিপো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়, যার জবাব আজ দিল তেহরান।
এদিকে হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায়ের এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ— সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও ওমান।
তবে ৭ দেশের যৌথ বিবৃতির কড়া সমালোচনা করে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি বলেছেন, “উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের ভূমিকাকে অবজ্ঞা করে কোনো সমান্তরাল পথ বা অস্পষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”
সূত্র: এএফপি
মন্তব্য করুন