
বাহরাইন সরকার দাবি করেছে, শনিবার (২৭ জুন) ভোরে ইরান তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যদিও হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান, লক্ষ্যবস্তু কিংবা ব্যবহৃত ড্রোনের ধরন সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তবে বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত হওয়ায় বিশ্লেষকদের ধারণা, হামলার মূল লক্ষ্য হতে পারে ওই মার্কিন সামরিক স্থাপনা।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে বাহরাইনের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের হামলা শুধু রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে।
এখন পর্যন্ত হামলায় কোনো বেসামরিক হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর নিশ্চিত হয়নি। তবে বাহরাইন সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
মূলত, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানকে দায়ী করে। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনী দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা ড্রোন হামলা চালানোর কথা ঘোষণা করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
তবে বাহরাইনের সুনির্দিষ্ট হামলার অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, মাত্র এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত কমানো এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখতে একটি সমঝোতা হয়েছিল। তবে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় সেই শান্তি প্রচেষ্টা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
মন্তব্য করুন