
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ১৮ জন আহত হয়েছেন। এতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
বুধবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে একটি পুলিশ পোস্টে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
এদিকে গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ শহরে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হেলিকপ্টার থেকে চালানো সরাসরি হামলায় একই পরিবারের এক শিশুসহ ৪ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ২৩১ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৮৬ জন।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ১২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ৩ হাজার ৬১৬ জন আহত হয়েছেন।
একই সময়ে ৮০০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উপত্যকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় এখনও বহু মরদেহ আটকা পড়ে আছে। তবে ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত গোলাবর্ষণ ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে সিভিল ডিফেন্স ও অ্যাম্বুলেন্স কর্মীরা অনেক এলাকায় পৌঁছাতে পারছেন না।
প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শত শতবার তা লঙ্ঘন করেছে।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বলছে, আন্তর্জাতিক মহলের বারবার আহ্বান সত্ত্বেও গাজায় সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফলে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু
মন্তব্য করুন