
খুলনার সুন্দরবনের কয়রা রেঞ্জের ময়দাফেসা খাল এলাকায় কোস্ট গার্ডের সঙ্গে কথিত বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাতে বন বিভাগের কয়রা টহল ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
কোস্ট গার্ডের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের একপর্যায়ে গোলাগুলির পর বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত রবিউল ইসলামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে রবিউল ইসলামকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, তার হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পুনরায় কোস্ট গার্ডের হেফাজতে নেওয়া হয়।
চিকিৎসা নথিতে তাকে কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের মানিক গাজীর জেলে হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মহেশ্বরীপুর এলাকার কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, রবিউল ইসলামই সুন্দরবনকেন্দ্রিক কথিত ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় সুন্দরবনে ‘ইলিয়াস বাহিনী’ নামে একটি বনদস্যু চক্র সক্রিয় ছিল। ওই বাহিনীর প্রধান ইলিয়াস নিহত হওয়ার পর ২০২৪ সালে তার বোনের স্বামী রবিউল ইসলাম নতুন একটি দল গঠন করেন। পরে স্থানীয়দের মধ্যে দলটি ‘দুলাভাই বাহিনী’ নামে পরিচিতি পায়।
কয়রা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বনের মধ্যে গোলাগুলির খবর শুনেছি। কিন্তু আমাদের কাছে এ বিষয়ে তথ্য নেই। কোস্ট গার্ড বিষয়টি দেখছে।
সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরাও বিষয়টি শুনেছি। কোস্ট গার্ড বিস্তারিত বলতে পারবে।
কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু চক্র হিসেবে পরিচিত ‘দুলাভাই বাহিনী’র বিরুদ্ধে রাতভর অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানের সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং বাহিনীর প্রধানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তারা আরও জানান, অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা মাঠে থাকায় বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অভিযানের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য করুন