
ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘কে’-এর শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও কলম্বিয়া। দুই দলই কার্যত নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। তবে এই ম্যাচের গুরুত্ব শুধুমাত্র শেষ ষোলো নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে জয়ী দল নকআউট পর্বে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়ার সুযোগ পাবে।
দুই ম্যাচে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে ইতোমধ্যেই নকআউট নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। অন্যদিকে চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পর্তুগাল। যদিও পর্তুগালের বিদায়ের সম্ভাবনা খুবই কম, তবুও গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে জয়ের বিকল্প নেই তাদের সামনে।
গ্রুপ ‘কে’-এর চ্যাম্পিয়ন দল শেষ ৩২-এ সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর একটির মুখোমুখি হবে। কিন্তু রানার্সআপ হলে অপেক্ষা করতে পারে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেক্ষেত্রে ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া কিংবা ঘানার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পর্তুগালের উইঙ্গার পেদ্রো নেতো স্বীকার করেছেন, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, সত্যি বলতে, আমরা সম্ভাব্য পরিস্থিতিগুলো নিয়ে ভাবি। দ্বিতীয় বা তৃতীয় হলে কী হতে পারে, সেটা আমরা দেখি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা পর্তুগিজ এবং আমাদের মানসিকতা সবসময় সেরা হওয়ার। তাই আমরা কলম্বিয়ার বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামব।
২০২৪ কোপা আমেরিকার রানার্সআপ কলম্বিয়া এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। আক্রমণভাগের নৈপুণ্য ও শক্তিশালী রক্ষণভাগের সমন্বয়ে দলটি কঠিন প্রতিপক্ষে পরিণত হয়েছে।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তিন গোলের জয় দিয়ে শুরু করা কলম্বিয়া পরে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) বিপক্ষে কঠিন ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের ধৈর্য ও দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে।
অন্যদিকে পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান ছিল কিছুটা উত্থান-পতনের।ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ৭৪০টি পাস সম্পন্ন করেও মাত্র একটি শট লক্ষ্যে রাখতে পেরে সমালোচনার মুখে পড়েছিল দলটি। তবে পরের ম্যাচেই উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ঘুরে দাঁড়ায় তারা।
সেই ম্যাচেই দীর্ঘদিনের গোলখরা কাটান পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা জোড়া গোল করে বড় টুর্নামেন্টে টানা ১০ ম্যাচের গোলখরা ভাঙেন।
লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং আর্লিং হালান্ড যখন গোল্ডেন বুটের দৌড়ে নিয়মিত গোল করছেন, তখন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে রোনালদোর ওপরও ছিল বাড়তি চাপ।
কাগজে-কলমে পর্তুগালের স্কোয়াডকে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হলেও কলম্বিয়ার শারীরিক সক্ষমতা, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং সুসংগঠিত রক্ষণ পর্তুগালের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে ম্যাচের শুরুতে মিয়ামির প্রায় ৩০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাও দুই দলের খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
গ্রুপ ‘কে’-এর শীর্ষস্থান নির্ধারণের এই ম্যাচটি শুধুমাত্র তিন পয়েন্টের লড়াই নয়; এটি নকআউট পর্বে অপেক্ষাকৃত সহজ পথ নিশ্চিত করারও যুদ্ধ। তাই মিয়ামিতে পর্তুগাল ও কলম্বিয়ার এই মুখোমুখি লড়াই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে পরিণত হতে যাচ্ছে। দুই দলের লক্ষ্য একটাই—গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নকআউট পর্বে প্রবেশ করা।
মন্তব্য করুন