
টানটান উত্তেজনার এক ফুটবল ম্যাচ। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে জমে উঠল লড়াই। চমৎকার এক দলীয় আক্রমণে প্রথমে গোল করে এগিয়ে গেল জাপান। তবে সেই ব্যবধান বেশিক্ষণ ধরে রাখতে দেয়নি সুইডেন; দ্রুতই ম্যাচে ফেরায় সমতা। এরপর ম্যাচের বাকি সময়ে দুই দলই বেশ কিছু আক্রমণ চালালেও শেষ পর্যন্ত আর কেউ জয়সূচক গোলের দেখা পায়নি।
ডালাসে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে অনুষ্ঠিত 'এফ' গ্রুপের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। তবে এই ড্রয়ের পরও দুই দলই নিশ্চিত করেছে নকআউট পর্বের টিকিট।
গ্রুপ পর্বের অন্য ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নেদারল্যান্ডস। নকআউট পর্বে ডাচদের প্রতিপক্ষ মরক্কো।
অন্যদিকে, সুইডেনের সঙ্গে ড্র করে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের রানার্সআপ হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠেছে জাপান। তবে নকআউটে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা; শেষ ১৬ তে ওঠার লড়াইয়ে জাপানিদের খেলতে হবে শক্তিশালী ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে। এছাড়া ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তৃতীয় অবস্থানে থাকা সুইডেনও সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে। তবে নকআউটে তারা কার মুখোমুখি হবে, তা জানতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।
ম্যাচের শুরুতেই প্রথম ভালো সুযোগটি পেয়েছিল সুইডেন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে সুইডিশ মিডফিল্ডার আলেকসান্দার বের্নহার্দসনের একটি বাঁকানো শট দারুণ দক্ষতায় ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি।
শুরুর সেই উত্তেজনার পর দীর্ঘক্ষণ খেলা মূলত মাঝমাঠেই সীমাবদ্ধ ছিল। এরই মধ্যে ৩৭তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন সুইডিশ ডিফেন্ডার ইসাক হিন, যা সুইডেন শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা ছিল।
ম্যাচের ৪০তম মিনিটে জাপানের ডিফেন্ডার ইয়োকিনারি সুগাওয়ারা ডি-বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শট নিলেও তা সুইডেনের গোলরক্ষক ইয়াকুব ভিদেল জেততেরস্ত্রুমকে পরাস্ত করতে পারেনি। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর আবারও জাপানের আক্রমণ। এবার ৪৫তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জাপানের ১৩ নম্বর জার্সিধারী ফুটবলার নেইতো নাকামুরার একটি গতিময় বাঁকানো শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন সুইডিশ গোলরক্ষক জেততেরস্ত্রুম। ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দল। ম্যাচের ৫৬তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় জাপান। চমৎকার এক দলীয় প্রচেষ্টায় আসে এই গোলটি। সতীর্থ আয়াসে উয়েদার সঙ্গে চমৎকার ‘ওয়ান-টু’ খেলে বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন রিতসু দোয়ান। সেখানে তিনি খুঁজে নেন আনমার্কড দাইজেন মায়েদাকে। পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে সেল্টিকের এই ফরোয়ার্ড জাপানকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।
জাপানের উদযাপনের রেশ কাটার আগেই, মাত্র ছয় মিনিট পর (৬২তম মিনিটে) এন্টনি এলাঙ্গার দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফেরে সুইডেন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ক্রস করার ভান করে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে সরাসরি গতিময় এক বাঁকানো শট নেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই ফরোয়ার্ড। জাপানি গোলরক্ষক ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি।
সমতায় ফেরার পর দুই দলই মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে। ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে সুইডেনের তারকা ফরোয়ার্ড আলেকসান্দার ইসাকের একটি নিশ্চিত গোলমুখী শট ঠেকিয়ে জাপানের উদ্ধারকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন গোলরক্ষক সুজুকি।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের (ইনজুরি টাইম) তৃতীয় মিনিটে আরও একবার জ্বলে ওঠেন সুজুকি। সুইডেনের এলাঙ্গার আরেকটি চমৎকার ও বিপজ্জনক শট অসাধারণ দক্ষতায় ঝাঁপিয়ে রুখে দেন তিনি। সুজুকির এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই শেষ পর্যন্ত ১-১ ব্যবধানের স্বস্তির ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে জাপান।
মন্তব্য করুন