
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এমন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে যা আক্রমণকারী পক্ষগুলোর প্রত্যাশার বাইরে ছিল বলে দাবি করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রতিরোধের ফলে ইরান এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সাম্প্রতিক সংঘাত এবং এর পেছনের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের রাজনৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেওয়া।
প্রেসিডেন্টের দাবি, শত্রুপক্ষ ধারণা করেছিল যে কয়েক দিনের মধ্যেই তারা ইরানের বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে নিজেদের অনুগত একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। তবে বাস্তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানি বাহিনীর পাল্টা প্রতিক্রিয়া এবং সামরিক সক্ষমতা এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার ফলে প্রতিপক্ষকে তাদের কৌশল পরিবর্তন করতে হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর প্রশংসায় আরও যোগ করেন যে, ‘তবে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধের মাঠে এমন এক বীরত্বপূর্ণ মহাকাব্য বা এপিক তৈরি করেছে যা শত্রু কখনোই কল্পনা করতে পারেনি।’ তিনি উল্লেখ করেন যে ইরানি সেনাদের এই অনমনীয় ও সুনির্দিষ্ট পাল্টা জবাবের কারণেই পশ্চিমা পরাশক্তিগুলো শেষ পর্যন্ত তাদের যুদ্ধের কৌশল পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
উল্লেখ্য যে মধ্যপ্রাচ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের একদম শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় ইরানের কাছে নিঃশর্ত ও সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে তেহরানের তীব্র সামরিক প্রতিরোধ এবং যুদ্ধের মাঠে আমেরিকার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কূটনৈতিক আলোচনার পথ অনুসন্ধান করছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য করুন