
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করে হতাশাজনক শুরু করেছিল ব্রাজিল। তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা দ্রুতই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পর স্কটল্যান্ডকেও একই ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ ছন্দে ফিরেছে সেলেসাওরা।
মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। তবে জয় ছাড়াও ম্যাচটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল নেইমার জুনিয়রের প্রত্যাবর্তন।
দীর্ঘ চোট কাটিয়ে প্রায় তিন বছর পর আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামেন নেইমার জুনিয়র। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড ম্যাচের শেষভাগে মাঠে নামলেও নিজের উপস্থিতি জানান দিতে সক্ষম হন।
মাঠে থাকাকালীন সতীর্থদের সঙ্গে দারুণ সমন্বয় করে খেলতে দেখা যায় তাকে। দীর্ঘ বিরতির পরও তাঁর ফিটনেস ও খেলার মান ব্রাজিল সমর্থকদের নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারের প্রত্যাবর্তন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছে কারণ সে এটার যোগ্য ছিল। ইনজুরি থেকে ফিরে আসতে সে কঠোর পরিশ্রম করেছে। আমি বিশ্বাস করি, তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। সে অল্প সময় খেললেও ভালো খেলেছে। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চাপানোর জন্য তার আলাদা কোনো অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হয় না। ৩৪ বছর বয়সেও তার আবেগ তরুণদের মতোই রয়েছে।
নেইমারের পাশাপাশি ম্যাচে জোড়া গোল করে বাম প্রান্তে আলো ছড়ানো ভিনিসিয়ুস জুনিয়রেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই মাস্টারমাইন্ড। তিনি বলেন, ভিনি বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে আছে এবং দলও তাঁকে খুব সাহায্য করছে। সে উইঙের পাশাপাশি ভেতরে ঢুকেও খেলতে পারে। ভিনিকে এই স্তরে দেখাটা দারুণ তৃপ্তির। আমি তাঁকে নতুন করে আবিষ্কার করিনি, সে বিশ্বমানের খেলোয়াড় এবং এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত হলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নন আনচেলত্তি। তাঁর মতে, ভালো খেলার চেয়ে ম্যাচ জেতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, আমরা কতদূর যাব, তা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করিনি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য ম্যাচ জেতা। একজন কোচকে শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয়ের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হয়, শুধু ভালো বা খারাপ খেলার ভিত্তিতে নয়।
নেইমারের প্রত্যাবর্তন, ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত ফর্ম এবং আনচেলত্তির কৌশলগত নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ব্রাজিল এখন শিরোপার অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে।
মন্তব্য করুন